FIFA World Cup 2026

গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করা রামোস পর্তুগালের নায়ক, রোনাল্ডোর বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলেন ২৫ বছরের তরুণ

২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন রামোস। অন্ত্রে ভাইরাল সংক্রমণ হয় তাঁর। দ্রুত শরীরের ওজন কমতে শুরু করে। ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি ছিল বেশ উদ্বেগজনক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১৫:৩৫
Picture of Football

গন্সালো রামোস। ছবি: রয়টার্স।

ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সংযুক্ত সময়ে গোল করে পর্তুগালের জয় নিশ্চিত করেছেন গন্সালো রামোস। বাঁচিয়ে রেখেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে লড়াই করা ২৫ বছরের স্ট্রাইকার এক সময় লড়াই করেছেন জীবনের সঙ্গেও।

Advertisement

বিশ্বকাপের মধ্যেই এসি মিলানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন রামোস। গত ৩০ জুন তাঁর সঙ্গে চুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন মিলান কর্তৃপক্ষ। গত তিন বছর তিনি ছিলেন প্যারিস সঁ জরমঁর অন্যতম ভরসা। সুযোগ সন্ধানী তরুণ স্ট্রাইকার কখনও ভাল ভাবে দাঁড়াতে পারবেন কিনা, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল এক সময়।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন রামোস। অন্ত্রে ভাইরাল সংক্রমণ হয় তাঁর। দ্রুত শরীরের ওজন কমতে শুরু করে। ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি ছিল বেশ উদ্বেগজনক। পর্তুগালের হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও দায়িত্ব নিয়েছিলেন পিএসজি কর্তৃপক্ষই। আগের মেডিক্যাল রিপোর্টের জন্য যোগাযোগ করা হয় রামোসের পুরনো ক্লাব বেনফিকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও। ২০ দিন সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন রামোস। শরীরে কোনও শক্তিই ছিল না প্রায়। টানা প্রবল জ্বর, বমি এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল চিকিৎসকদেরও। কোনও কঠিন খাবার খেতে পারতেন না।

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও বেশ কিছুদিন চিকিৎসা চলেছিল তাঁর। কয়েক দিনের মধ্যেই আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বড়দিনের ছুটির মধ্যে। শরীরের ওজন কমে গিয়েছিল অনেকটাই। বেশিক্ষণ দাঁড়াতেও পারতেন না। আবার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় পর্তুগিজ স্ট্রাইকারকে। সরাসরি শিরায় ইঞ্জেকশন নিতে হত তাঁকে। সতীর্থেরা যখন প্রাক্‌ মরসুম অনুশীলন শুরু করে দেন, তখনও সুস্থ হওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ সম্পূর্ণ ভাবে ভাইরাস মুক্ত হন।

সুস্থ হওয়ার পর পিএসজির অনুশীলনে যোগ দেন। কিন্তু তাঁর শরীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে খেলার অনুমতি দেননি পিএসজির মেডিক্যাল স্টাফেরা। তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছিলেন, মাঠে নেমে প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের সঙ্গে লড়াই করার মতো সক্ষমতা নেই রামোসের। তরুণ স্ট্রাইকারকে মাঠে ফেরাতে বিশেষ পরিকল্পনা করেন পিএসজির মেডিক্যাল স্টাফেরা। আলাদা অনুশীলন করানো হত। তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ খাদ্য তালিকাও।

অসুস্থতা অনেকটা পিছিয়ে দেয় রামোসকে। পিএসজির হয়ে খেলার সুযোগ পেতেন না তেমন। কয়েক মাস পর দলে ফিরলেও প্রথম একাদশে জায়গা হত না। পরিবর্তন হিসাবে ৩০-৪০ মিনিটের জন্য মাঠে নামানো হত। নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতেই গত মরসুমের শেষে ক্লাব বদলের সিদ্ধান্ত নেন রামোস।

অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসা স্ট্রাইকার এখন পর্তুগালে নায়কের সম্মান পাচ্ছেন। বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-র ম্যাচে তাঁর গোলই তো বাঁচিয়ে রেখেছে রোনাল্ডোর বিশ্বজয়ের আশা। অসুস্থতায় শক্তিহীন হয়ে যাওয়া তাঁর পা জ্বলে উঠেছে সঠিক সময়ে।

Advertisement
আরও পড়ুন