গোলের পর উল্লাস রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়রের। ছবি: রয়টার্স।
প্রথম পর্বেই ছবিটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় পর্বে তাতে সিলমোহর পড়ল। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল রিয়াল মাদ্রিদ, প্যারিস সঁ জরমঁ ও আর্সেনাল। ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে ২-১ (দুই পর্ব মিলিয়ে ৫-১) গোলে হারাল রিয়াল। আর্সেনাল ২-০ (দুই পর্ব মিলিয়ে ৩-১) গোলে হারাল বায়ের লেভারকুসেনকে। চেলসিকে ৩-০ (দুই পর্ব মিলিয়ে ৮-২) গোলে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিল পিএসজি।
প্রথম পর্বে রিয়ালের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গিয়ে ০-৩ হেরেছিল ম্যান সিটি। তবে তার পরেও স্বস্তিতে ছিলেন না রিয়ালের সমর্থকেরা। কারণ, অতীতে বহু বার ম্যান সিটির কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাঁদের। কিন্তু সেই সিটি আর এই সিটির বিস্তর ফারাক। ঘরের মাঠে রিয়ালের কাছে ১-২ হারল তারা। জোড়া গোল ভিনিসিয়াস জুনিয়রের। সিটির হয়ে গোল করলেন আর্লিং হালান্ড।
১৮ মিনিটের মাথায় রিয়ালকে এগিয়ে দিতে পারতেন ভিনিসিয়াস। তাঁর শট পোস্টে লেগে ফেরে। দু’মিনিট পরেই আবার ভিনিসিয়াস গোল লক্ষ্য করে শট মারেন। গোল লাইনে হাতে বল আটকান বের্নার্ডো সিলভা। কিন্তু রেফারি অফসাইড দেন। যদিও প্রযুক্তি দেখিয়ে দেয়, ভিনিসিয়াস অফসাইডে ছিলেন না। ফলে রেফারি সিলভাকে লাল কার্ড দেখান। পেনাল্টি পায় রিয়াল। গোল করতে ভুল করেননি ভিনিসিয়াস।
৪১ মিনিটের মাথায় গোল শোধ করেন হালান্ড। দেখে মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে সিটি খেলায় ফিরবে। নিজের সব তাস খেলে ফেলেন গুয়ার্দিওলা। তার পরেও দল জেতেনি। উল্টে সংযুক্তি সময়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন ভিনিসিয়াস। শেষের দিকে মাঠে নামতে দেখা যায় কিলিয়ান এমবাপেকেও। চোটের কারণে দীর্ঘ দিন মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। তবে জয়ের মধ্যেই চিন্তা বেড়েছে গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়ার চোট নিয়ে। প্রথমার্ধের পর তাঁকে তুলে নিয়ে আন্দ্রি লুনিনকে নামানো হয়। যদিও কোচ আলভারো আর্বেলোয়া খেলা শেষে জানিয়েছেন, কুর্তোয়ার চোট তেমন গুরুতর নয়।
মরসুমের মাঝপথে দায়িত্ব নিয়ে আর্বেলোয়া রিয়ালকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুললেও চাপ বাড়ছে গুয়ার্দিওলার উপর। সিটিকে একের পর এক সাফল্য এনে দেওয়া কোচের সব জাদু উধাও। প্রিমিয়ার লিগ হোক বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, সিটির সেই দাপট আর দেখা যাচ্ছে না। তবে কি এ বারই এই ক্লাবে শেষ মরসুম গুয়ার্দিওলার? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট তালিকায় সকলের উপরে রয়েছে তারা। খুব অঘটন না ঘটলে এ বার ইংল্যান্ডের সেরা ক্লাব হতে চলেছে আর্সেনাল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও দাপট দেখাচ্ছে মিকেল আর্তেতার দল। নিজেদের ঘরে মাঠে লেভারকুসেনকে সহজে হারিয়েছে তারা।
প্রথমার্ধে লেভারকুসেনের গোলে মোট ১২টি শট মারে আর্সেনাল। বেশির ভাগ শট বাঁচান লেভারকুসেনের গোলরক্ষক জানিস ব্লাসউইচ। কিন্তু ৩৬ মিনিটের মাথায় প্রায় ২০ গজ দূর থেকে মারা এবেরেচি এজ়ের শট বাঁচাতে পারেননি তিনি। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি সেরা গোল কি না, তা নিয়ে তর্ক হতেই পারে। ৬৩ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোল করেন ডেকলান রাইস। আরও একটি গোল করেছিলেন কাই হাভের্ৎজ়। কিন্তু গোল করার আগে বল হাতে লাগায় রেফারি তা বাতিল করেন।
চেলসিকে দেখে মনে হচ্ছিল, পাড়ার কোনও ক্লাব। তাদের নিয়ে ছেলেখেলা করল প্যারিসের ক্লাব। দুই পর্ব মিলিয়ে ৮ গোল হজম করল চেলসি। দুই পর্বেই দাপট দেখালেন খিভিচা কাভারাতস্কেলিয়া। ঘরের মাঠে জঘন্য ফুটবল খেলল চেলসি। সমর্থকেরা মাঠেই বিদ্রুপ করলেন। পিএসজি-র গোলের পর দেখা গেল, চেলসির সমর্থকেরা হাততালি দিচ্ছেন। এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে।
চেলসির রক্ষণের ভুল কাজে লাগিয়ে তিনটি গোল করে দেয় পিএসজি। ৬ মিনিটে প্রথম গোল করেন কাভারাতস্কেলিয়া। ১৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ব্র্যাডলি বার্কোলা। দ্বিতীয়ার্ধে ৬২ মিনিটে দলের তৃতীয় গোল করেন সেনি মায়ুলু। গোটা ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে, কোনও পরিকল্পনা নেই চেলসির। তার খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের আরও এক ক্লাব লিভারপুলের মুখোমুখি হতে পারে পিএসজি। তার আগে এই জয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে ফুটবলারদের।