ইস্টবেঙ্গল-পঞ্জাব ম্যাচে বল দখলের লড়াই। ছবি: পিটিআই।
পঞ্জাব এফসির সঙ্গে ড্র করে নিজেদেরই চাপে ফেলে দিলেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারেরা। সোমবার যুবভারতীতে দু’দলের খেলা শেষ হল গোলশূন্য অবস্থায়। মোহনবাগানের পয়েন্ট নষ্টের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে পারল না ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবার ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে মোহনবাগান জিতলেই আবার ২ পয়েন্টে এগিয়ে যাবে সবুজ-মেরুন।
আইএসএল জয়ের দৌড়ে কিছুটা হলেও পিছিয়ে গেল অস্কার ব্রুজ়োর দল। পঞ্জাব ম্যাচ ছিল ইস্টবেঙ্গল কোচ হিসাবে ব্রুজ়োর ৫০তম। এমন একটা ম্যাচে কোচকে ৩ পয়েন্ট উপহার দিতে পারলেন না সৌভিক চক্রবর্তী, আনোয়ার আলি, মিগুয়েলরা। ম্যাচের অধিকাংশ সময় দাপট ছিল পঞ্জাবের ফুটবলারদের। বেশি সময় তাঁদের দখলেই ছিল বল। ঘরের মাঠেও ইস্টবেঙ্গলকে খানিকটা দিশাহারাই দেখাল। আইএসএলের শেষ পর্বে যা ভাল ইঙ্গিত নয়। গোলরক্ষক প্রভসুখন সিংহ গিল বেশ কয়েক বার দলের পতন রোধ করলেন। ইস্টবেঙ্গলের দু’টি শট অবশ্য পোস্টে লেগে ফিরে আসে। লাল-হলুদ ফুটবলারেরাও গোলের একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।
মঙ্গলবার লাল-হলুদ ব্রিগেডের ফুটবল সমর্থকদের মন ভরাতে পারল না। গোটা ম্যাচে তেমন ভাল সুযোগও তৈরি করতে পারেননি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারেরা। পঞ্জাবের রক্ষণ ভাঙতে পারেননি তাঁরা। মাঝ মাঠের নিয়ন্ত্রণও নিতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। তুলনায় ভাল খেললেন রক্ষণের ফুটবলারেরা। প্রথমার্ধে পঞ্জাবের একটি শট বারে লেগে ফিরে আসে। লাল-হলুদ ফুটবলারেরা প্রথম ৪৫ মিনিটে সেই অর্থে সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। এক বার মিগুয়েল পেনাল্টির আবেদন করেন। কিন্তু রেফারি কান দেননি। ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের শেষ ১০-১২ মিনিট পঞ্জাবকে চেপে ধরলেও লাভ হয়নি। মিগুয়েল এবং রশিদের শট বারে লেগে ফিরে আসে। দু’টিই ছিল বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট।
ব্রুজ়ো দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করেও দলের খেলা বদলাতে পারেননি। ম্যাচের অধিকাংশ সময়ই ব্যস্ত থাকতে হয় ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষককে। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের সামনে থাকা দলের যেমন ফুটবল খেলার কথা ছিল, তা পারেনি। কোচ ব্রুজ়োর সম্প্রতি কয়েক জন প্রাক্তন ফুটবলারকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। আইএসএলের গুরুত্বপূর্ণ সময়, এই বিতর্ক হয়তো দলের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলতে শুরু করল।