বিমানবন্দরে টারম্যাকে সেনেগালের ফুটবলারদের দেহ তল্লাশি। ছবি: এক্স।
যেন এক দল অপরাধী! বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া সেনেগাল এবং উজ়বেকিস্তানের ফুটবলারদের দেহ তল্লাশি করা হল আমেরিকায়। নিরাপত্তাকর্মীরা প্রকাশ্যে ফুটবলারদের তল্লাশি নেন। ব্যবহার করা হয় মাদক সন্ধানী কুকুরও। এই ঘটনায় তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রশ্নের মুখে ফিফার ভূমিকা।
আমেরিকায় পৌঁছেই দীর্ঘ জেরার মুখে পড়তে হয়েছে ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে। ১০ ঘণ্টার বেশি জেরা করা হয়েছে ইরাকের বিশ্বকাপ দলের চিত্রগ্রাহককে তালাল শাহকে। বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা রেফারি সেনেগালের ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে। বিভিন্ন দেশের ফুটবলার, রেফারিদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পারদ আরও চড়ল সেনেগাল এবং উজ়বেকিস্তান দল পৌঁছোনোর পর।
বিমান থেকে নামার পর টারম্যাকেই সেনেগালের ফুটবলারদের তল্লাশি করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তল্লাশি শেষ হওয়ার আগে তাঁদের বিমানবন্দরের ভিতরেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সেনেগালের ফুটবলারদের সব ব্যাগ খুলেও তল্লাশি চালানো হয়।
প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে উজ়বেকিস্তান দলের সঙ্গেও। অনুশীলনের জন্য নিউ ইয়র্কের আইকান স্টেডিয়ামে পৌঁছোনোর পর উজ়বেক ফুটবলারদের কড়া তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। শুধু নিরাপত্তাকর্মীরাই নন, মাদক সন্ধানী কুকুর দিয়েও পরীক্ষা করা হয় প্রত্যেক ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফকে।
এই দুই ঘটনার ছবি এবং ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের সঙ্গে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা কর্তৃপক্ষও। আয়োজক দেশ নির্বাচন নিয়ে ফিফার উপর ক্ষোভ বাড়ছে। মনে করা হচ্ছে, ইরানের দল ম্যাচ খেলতে আমেরিকায় ঢুকলে আরও খারাপ ব্যবহার করা হবে। এত কিছুর পরও ফিফা কেন নিরব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বহু দেশের ফুটবলপ্রেমী এবং সাংবাদিকদের ভিসা দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। অনেককে এক বার প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়েছে। আমেরিকা থেকে তাঁরা কানাডা বা মেক্সিকোয় গেলে আর ফিরতে পারবেন না। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে আমেরিকার বৈষম্যমূলক এবং বর্জনমূলক নীতি।