লিয়োনেল মেসি। ছবি: রয়টার্স।
লিয়োনেল মেসির বাবার যে শরীর খারাপ সেই খবর প্রকাশ্যে এসেছিল কিছু দিন আগেই। সেই খবরকেই ভুল তথ্য হিসাবে পরিবেশন করে সমালোচিত হয়েছিলেন সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট চ্যানেল। চাপের মুখে কাঁদতে কাঁদতে চাকরি ছাড়লেন ওই সাংবাদিক। সম্প্রতি এই খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
আর্জেন্টিনার এক নামকরা টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ফ্লোরেন্সিয়া পেনা নিজেই এই খবর জানিয়েছেন। তিনি ‘লুজ়ু টিভি’তে কাজ করেন। আলজেরিয়া ম্যাচের পর সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন পেনা বলেন, “আমি খারাপ খবরটা বলতে চাই না। কিন্তু মেসির বাবা কিছু ক্ষণ আগেই মারা গিয়েছেন। হঠাৎ করেই ঘটনাটি ঘটেছে। ঠিক বিশ্বকাপের মাঝে।” সঙ্গে সঙ্গে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়। পরে পেনা জানান, এই খবরটি এখনও নিশ্চিত নয়।
পরে মেসির পরিবার বিবৃতি দিয়ে জানায়, খবরটি ভুয়ো। তার পরেই কাঁদতে কাঁদতে চাকরি ছাড়েন পেনা। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মেসির পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইছি। এত বড় ভুল কথা বলার জন্য নিজের কাছেই লজ্জিত।”
৫১ বছরের পেনা আর্জেন্টিনায় যথেষ্ট বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। তিনি জানিয়েছেন, অস্বীকৃত তথ্য দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। পেনা বলেছেন, “আমাকে বলতেই হবে, সরাসরি সম্প্রচারের সময় ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল আমাকে। এমন ভাবে বলা হয়েছিল যেন প্রযোজক দল সবটা বিশ্বাস করেই বলেছে। ওদের উপর বিশ্বাস করেছিলাম। ভুল প্রমাণিত হয়ে মন থেকে সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি।”
ক্ষমা চাওয়া হয়েছে প্রযোজকদের তরফেও। তারা জানিয়েছে, যাঁরা এই কাজের জন্য দায়ী তাঁদের সকলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পেনা নিজেই সরে গিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন মেসির পরিবারের তরফে ‘ইএসপিএন’-কে দেওয়া একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন মেসির বাবা জর্জ। ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন। আগের থেকে ভাল আছেন।”
জর্জের অসুস্থতা নিয়ে যে ভাবে সংবাদমাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে তা নিয়েও এক হাত নেওয়া হয়েছে পরিবারের তরফে। তাদের দাবি, সরকারি ভাবে না জানানো সত্ত্বেও এই জল্পনা একেবারেই কাম্য নয়।
মেসির পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, যে ভাবে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, গুজব এবং জল্পনা ছড়ানো হচ্ছে তা অত্যন্ত অসংবেদনশীল। এই মুহূর্তে পরিবারের তরফে সহমর্মিতা এবং সহযোগিতা আশা করা হয়েছে। গোটা বিষয়টি ব্যক্তিগত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যে কোনও তথ্যের জন্য পরিবারের লোকেদের কথাই বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে।