স্বস্তি: ম্যাচের পরে নেমারকে আলিঙ্গন আনচেলোত্তির। রয়টার্স
জোড়া গোল করে তিনিই নায়ক। ভিনিশিয়াস জুনিয়র মনে করছেন, স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই জয় নক-আউট পর্বের জন্য ব্রাজ়িলের মনোবল বাড়িয়ে রাখল। বিশেষ করে মরক্কোর বিরুদ্ধে ড্র করে দুশ্চিন্তার সঙ্গে বিশ্বকাপ শুরু করার পরে।
মরক্কোর বিরুদ্ধে দল ভাল খেলেনি, স্বীকার করছেন ভিনি। সেদিনও তাঁর গোলেই ব্রাজ়িলের মানরক্ষা হয়েছিল। এই নিয়ে চারটি গোল হয়ে গেল তাঁর এবং গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ডদের সঙ্গে টক্কর দিচ্ছেন ভিনি। ‘‘এই বিশ্বকাপে এটাই এখনও পর্যন্ত আমাদের সব চেয়ে নির্ভুল ম্যাচ। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় উন্নতি করতে থাকাটা খুবগুরুত্বপূর্ণ,’’ স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বলছেন তিনি। যোগ করেন, ‘‘নিজেদের শক্তি বুঝে নিতে হবে গ্রুপ পর্বে। কোথায় ভুল হচ্ছে সেগুলোও দেখে নিতে হবে। প্রথম ম্যাচে ভুল করার পরে দ্রুত সব ঠিক করার দরকার ছিল।’’
শুধু জোড়া গোল করে জেতানোই নয়, এ দিন কোচের সঙ্গে বাজিও জিতলেন ভিনিশিয়াস। কোচ আনচেলোত্তি বলেছিলেন, ‘‘তোমার পক্ষে হেডে গোল করা সম্ভব নয়।’’ ভিনি পাল্টা বলেছিলেন, ‘‘হেডে গোল করে দেখাব।’’ এ দিন হেডে গোল করার পরে ভিনি বলেন, ‘‘চ্যালেঞ্জ আমিই জিতলাম। আশা করছি, কোচ কোনও ভাল পুরস্কার দেবেন।’’
ভিনিদের আক্রমণের জোয়ারের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি স্কটল্যান্ড। আরও গোল হতে পারত। একা ভিনিই শেষ করে দিলেন স্কটল্যান্ডকে। এই বিশ্বকাপে চারটে গোল হয়ে গেল ভিনির। নায়ক বলছেন, ‘‘চারটে গোল করলাম না ক’টা, সেই সংখ্যা নিয়ে আমি ভাবিত নই। গোলগুলো করে আমি খুশি কারণ তা দলের কাজে এসেছে। দলকে জেতাতে সাহায্য করেছে।’’ দ্রুত যোগ করতে ভুলছেন না, ‘‘আমি খুশি। তবে মাটিতে পা রেখে চলতে চাই। পরের ম্যাচে আরও উন্নতি করতে চাই।’’ বোঝাই যাচ্ছে, সাও পাওলোর অলিগলিতে রাস্তার ফুটবল খেলতে খেলতে কেন তিনি আজ রিয়াল মাদ্রিদের সেরা তারকা। এমন দায়বদ্ধতা, এমন অধ্যবসায় না থাকলে বিশ্ব ফুটবলে এই উত্তরণ সম্ভব হত না।
এ দিন ৯৮১ দিন পরে ব্রাজ়িলের জার্সিতে মাঠে ফিরেছিলেন নেমার। ম্যাচের পরে স্ত্রী-কন্যা-পরিবারের সঙ্গে যখন দেখা করতে যান, নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি। কেঁদে ফেলেন। পরিবারের সকলেও তাঁকে ঘিরে আনন্দে কাঁদতে থাকেন। ‘‘ম্যাচের পরে আমি আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি,’’ স্বীকার করেন নেমার।
ব্রাজ়িল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি, যাঁকে প্রায় হাসতে দেখাই যায় না, তিনিও দলের খেলায় খুশি। ‘‘হ্যাঁ, আমরা ভাল খেলেছি। আমি খুশি। চেয়েছিলাম, হাইতির বিরুদ্ধে যে রকম খেলেছিলাম, ছেলেরা তার পুনরাবৃত্তি করুক। সেটাই ওরা করেছে।’’ ম্যাচের পরে বলেছেন তিনি। নেমারের প্রত্যাবর্তন দেখেও আশাবাদী কোচ। তিনি মনে করেন, নেমার বাকি বিশ্বকাপে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবেন। দু’টি তিন গোলের জয়, একটি ড্র। সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রপের শীর্ষে থেকেই নক-আউটে যাচ্ছে ব্রাজ়িল।নক-আউটে তাদের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে সম্ভবত জাপান। নেমার যদি সেরা আবেগ হন, ভিনি নিশ্চয়ই সব চেয়ে বড় ভরসা। ম্যাচের সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে ভিনি বলে দিয়েছেন,‘‘ফুটবলে গোল করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম তিনটি ম্যাচে আমি দলের প্রতি অবদান রাখতে পেরে খুশি কারণ অতীতে ব্রাজ়িলের হয়ে আমার প্রকৃত ফুটবল খেলতে পারিনি।’’
ক্লাবের হয়েই কারিকুরি দেখান তিনি, দেশের হয়ে পারেন না— ব্রাজ়িলের জনতার থেকেই এমন কথা অনেক বার শুনতে হয়েছে ভিনিশিয়াসকে। মনে হচ্ছে, সেই অপবাদ মুছে ফেলার জন্য জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপকে বিশেষ ‘মিশন’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন ভিনি!