Australian Open 2026

সাড়ে ৫ ঘণ্টার ম্যাচ খেলে ফাইনালে ওঠার পর জোকোভিচ বলছেন, যাঁরা অবসর নিয়ে চর্চা করছিলেন, তাঁরাই আমার অনুপ্রেরণা

শনিবার পাঁচ সেটের লড়াইয়ে সিনারকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন জোকোভিচ। তাঁকে নিয়ে যে অবসরের গুঞ্জন চলছে, তার কড়া জবাব দিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সি জোকার জানান, অবসরের চর্চা তাঁর একাগ্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১৭
Novak Djokovic

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠার পথে নোভাক জোকোভিচ। ছবি: রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠার পর নোভাক জোকোভিচ এখন হন্যে হয়ে খুঁজছেন কয়েক জন বিশেষজ্ঞকে। এঁরা গত কয়েক বছর ধরে জোকারকে বার বার অবসরে পাঠিয়েছেন।

Advertisement

শনিবার পাঁচ সেটের লড়াইয়ে জানিক সিনারকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন জোকোভিচ। তাঁকে নিয়ে যে অবসরের গুঞ্জন চলছে, ম্যাচের পর তার কড়া জবাব দিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সি এই তারকা জানান, অবসরের চর্চা তাঁর একাগ্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় থেকে তিনি মাত্র এক ধাপ দূরে।

মেলবোর্নে ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের লড়াইয়ের পর জিতেছেন জোকোভিচ। গত বারের চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের দু’নম্বরে থাকা সিনারকে ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৪-৬, ৬-৪ গেমে হারিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি নিজের ফিটনেস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

জোকোভিচ বলেন, “আমি নিজের উপর কখনও বিশ্বাস হারাইনি। অনেকেই আমাকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। আমি দেখছি ইদানীং হঠাৎ করেই অনেক বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়েছেন, যাঁরা গত কয়েক বছর ধরে আমাকে বার বার অবসরে পাঠাতে চেয়েছেন। তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ, তাঁরা আমাকে শক্তি জুগিয়েছেন। তাঁদের যাতে আমি ভুল প্রমাণ করতে পারি, তাঁরাই আমাকে সেই অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সত্যি বলতে, আমার কাছে এটা অবাক হওয়ার মতো কোনও বিষয় নয়।”

ফাইনালে ওঠার রাস্তা মোটেও মসৃণ ছিল না বলে মেনে নিয়েছেন জোকোভিচ। আগের রাউন্ডে ইটালির আর এক খেলোয়াড় লরেঞ্জো মুসেত্তির চোটের কারণে তিনি কিছুটা সুবিধা পেলেও, সিনারের বিপক্ষে এই জয়টি তাঁর যোগ্যতার প্রমাণ বলেই মনে করেন জোকার।

জোকোভিচ বলেন, “আমি জানি কী করতে পারি। আমার কেরিয়ারে গ্র্যান্ড স্ল্যামের অনেক ম্যাচে এমন দিন গিয়েছে যখন আমি নিজের সেরা ছন্দে ছিলাম না। তবুও নিজের সর্বস্ব দিয়ে জেতার রাস্তা খুঁজে নিতে হয়। আজকের ম্যাচটাও ঠিক তেমনই ছিল।”

সিনারের কাছে টানা হারের পর এই ম্যাচের প্রস্তুতি এবং মানসিক স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানান জোকোভিচ। বলেন, “খুব স্পষ্ট একটি পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলাম। কিন্তু কেউ কী ভাবে খেলতে চায় সেটা ঠিক করা একটা জিনিস, আর সিনারের মতো উচ্চমানের খেলোয়াড়ের বিপক্ষে সেটা করে দেখানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।”

এই ম্যাচের আগে টানা পাঁচ বার জোকোভিচকে হারিয়েছিলেন সিনার। এতে ধারণা করা হচ্ছিল যে, টেনিসের রাজ্যপাট এখন সিনার বা কার্লোস আলকারাজ়ের মতো তরুণ প্রজন্মের হাতে চলে গেছে। জোকোভিচের এই জয় সেই ধারণাকে আপাতত ভুল প্রমাণ করল।

Advertisement
আরও পড়ুন