(বাঁ দিকে) ব্রিজভূষণ শরণ সিংহ ও বিনেশ ফোগাট (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ভারতীয় কুস্তি সংস্থার সঙ্গে সংঘাতের জেরেই কুস্তি ছেড়েছিলেন। ২০ মাস পর আবার কুস্তিতে ফেরার চেষ্টা করছেন বিনেশ ফোগাট। কিন্তু ভারতের মহিলা কুস্তিগিরের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করছে কুস্তি সংস্থা। যদিও এই অভিযোগ মানতে চায়নি ফেডারেশন।
প্যারিস অলিম্পিক্সে সোনার লড়াইয়ে নামতে না পেরে কুস্তি থেকে অবসর নিয়েছিলেন বিনেশ। তিনি জানিয়েছেন, সামনের মাসে আয়োজিত জাতীয় ওপেন র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতায় নামতে চান। কিন্তু তার জন্য রেজিস্ট্রেশনই করতে পারছেন না। ভারতীয় কুস্তি সংস্থার ওয়েবসাইটে দেখাচ্ছে, রেজিস্ট্রেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অথচ, গত ৮ এপ্রিল কুস্তি সংস্থা জানিয়েছিল, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নাম জমা দেওয়া যাবে।
১০-১২ মে উত্তরপ্রদেশের গোন্দায় নন্দিনীনগর মহাবিদ্যালয়ে আয়োজিত হবে জাতীয় র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতা। ভারতীয় কুস্তি সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিংহ এই গোন্দারই সাংসদ ছিলেন। নন্দিনীনগর মহাবিদ্যালয় তিনিই তৈরি করেছেন। এই ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধেই ২০২৩ সালে মহিলা কুস্তিগিরদের হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছিল। তা নিয়ে উত্তাল হয়েছিল ভারত। দিল্লির যন্তরমন্তরে ধর্না দিয়েছিলেন বিনেশ, সাক্ষী মালিক, বজরং পুনিয়ার মতো কুস্তিগিরেরা। আপাতত দিল্লির আদালতে সেই মামলা চলছে। ব্রিজভূষণ এখন কু্স্তি সংস্থার কোনও দায়িত্বে নেই। বর্তমান সভাপতি সঞ্জয় সিংহ। কিন্তু বিনেশদের অভিযোগ, এই সঞ্জয় ব্রিজভূষণের ডানহাত ছিলেন। ফলে বকলমে ব্রিজভূষণই এখনও ভারতীয় কুস্তি চালাচ্ছেন।
বিনেশ জানিয়েছেন, তিনি কুস্তি সংস্থার দফতরে ফোন করেছিলেন। কিন্তু কেউ ফোন তোলেননি। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে বিনেশ বলেন, “আমি জাতীয় র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতায় প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করছি। ৩০ এপ্রিস পর্যন্ত নাম জমা দেওয়ার সময় ছিল। কিন্তু যখনই রেজিস্ট্রেশন করতে যাচ্ছি, ওয়েবসাইট জানাচ্ছে, তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমি কুস্তি সংস্থার দফতরে ফোন করেছি। কিন্তু কেউ ফোন তোলেনি।”
কুস্তি সংস্থার সভাপতি সঞ্জয় পাল্টা দাবি করেছেন, কাউকে আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “অনেক কুস্তিগিরের কাছেই আমরা অভিযোগ পেয়েছি যে, রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে না। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এটা হতে পারে। যারা নাম জমা দিতে পারছে না, তারা সরাসরি ফেডারেশনে যোগাযোগ করছে। তাদের সমস্যা মিটে যাচ্ছে। আমরা প্রতিযোগিতায় নামা থেকে কাউকে আটকাচ্ছি না। সকলের জন্য দরজা খোলা আছে।”
সঞ্জয় জানিয়েছেন, এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালে ডাক পাওয়ার জন্য কুস্তিগিরদের কাছে এই প্রতিযোগিতায় শেষ সুযোগ। যাঁরা ২০২৫ সালের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০২৬ সালের ফেডারেশন কাপে নামতে পারেননি, তাঁরা এই প্রতিযোগিতায় নামার সুযোগ পাবেন। তবে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ও ফেডারেশন কাপে যাঁরা পদক জিতেছেন, তাঁদেরই সুযোগ দেওয়া হবে। এই প্রতিযোগিতায় পদক জিতলে এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালে ডাক পাওয়া যাবে।
চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে হবে এশিয়ান গেমস। অক্টোবর মাসে রয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। বিনেশের অভিযোগ, ফেডারেশন কাপেও ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁকে নামতে দেওয়া হয়নি। এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী কুস্তিগির বলেন, “আমি ফেডারেশন কাপে নামতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিয়ম বদলে দেওয়া হল। তাই নামতে পারলাম মা। আমার মনে হচ্ছে, ইচ্ছাকৃত ভাবে আমাকে আটকানো হচ্ছে।”
প্যারিস অলিম্পিক্সে মহিলাদের ৫০ কেজি বিভাগের ফাইনালে উঠেছিলেন বিনেশ। কিন্তু ফাইনালের দিন সকালে তাঁর ওজন ১০০ গ্রাম বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন তিনি। সেই সময়ও কুস্তি সংস্থা ও ভারতীয় অলিম্পিক্স সংস্থাকে নিশানা করেছিলেন বিনেশ। তার পরেই কুস্তি থেকে অবসর নেন তিনি। ২০ মাস পর বিনেশ জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে আবার নামতে চান তিনি। সেই কারণেই এই প্রতিযেগিতায় নামতে হবে তাঁকে। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করতেই সমস্যা হচ্ছে তাঁর।