—প্রতীকী ছবি।
পয়লা বৈশাখের আগে ব্যাপক সস্তায় বাজারে নতুন ল্যাপটপ এনেছে অ্যাপ্ল। মাত্র ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বহুজাতিক মার্কিন টেক জায়ান্টির ওই ডিভাইস, যার পোশাকি নাম ‘ম্যাকবুক নিও’। দাম কম হওয়ায় অনেকের দাবি, এ বার হয়তো ‘মৃত্যুঘণ্টা’ বাজতে চলেছে উইন্ডোজ় ল্যাপটপের। যদিও ম্যাকবুক নিও কেনার আগে দু’বার ভাবার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
কাগজে-কলমে অ্যাপ্লের নতুন ল্যাপটপ বেশ আকর্ষণীয়। ম্যাকবুক নিওতে রয়েছে ১৩ ইঞ্চির রেটিনা ডিসপ্লে। ২০০০ সালে ‘ম্যাকবুক এম-১’কে বাজারে আনে এই বহুজাতিক মার্কিন টেক জায়ান্ট। নকশার দিক থেকে যার সঙ্গে নতুন ডিভাইসটির হুবহু মিল আছে। তা ছাড়া ম্যাকবুল নিওতে একটি শক্তিশালী চিপ ব্যবহার করেছে অ্যাপ্ল, নাম বায়োনিক এ-১৮ প্রো।
গ্যাজেট বিশ্লেষকদের কথায়, একটু তলিয়ে দেখলেই নজরে পড়বে এগুলির কোনওটাই খুব দুর্দান্ত প্রযুক্তি নয়। উদাহরণ হিসাবে বায়োনিক এ-১৮ প্রো চিপের কথা বলা যেতে পারে। ষষ্ঠ নয়, এটি প্রকৃতপক্ষে পঞ্চম প্রজন্মের (ফাইভ কোর) সেমিকন্ডাক্টর। তা ছাড়া ম্যাকবুক নিওর কিবোর্ডে কোনও ব্যাকলিড নেই। ফলে অন্ধকারে কিছু লিখতে বেশ সমস্যার মুখে পড়বেন গ্রাহক।
এগুলির পাশাপাশি নতুন ডিভাইসে টাচ আইডি প্রযুক্তি দেয়নি অ্যাপ্ল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আরও ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি খরচ করলেই গ্রাহক হাতে পেয়ে যাবেন ম্যাকবুক এয়ার, যাতে আছে অত্যাধুনিক এমটু চিপ। ১৬ জিবি র্যাম, ৫১২ জিবি স্টোরেজ এবং শক্তিশালী ব্যাটারিযুক্ত ওই ল্যাপটপের পারফরম্যান্সের ধারেকাছে যে বাকিরা নেই, তা বলাই বাহুল্য।
এত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও ম্যাকবুক নিওকে কেন বাজারে আনল অ্যাপ্ল? বিশ্লেষকদের দাবি, এর নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, মার্কিন টেক জায়ান্টটির ডিভাইস গ্রাহকদের একটা বড় অংশ শুধুমাত্র আইফোন ব্যবহার করে থাকেন। ল্যাপটপের ক্ষেত্রে তাঁদের পছন্দ উইন্ডোজ় অপারেটিং সিস্টেম। মূলত দাম বেশি হওয়ার কারণেই ম্যাকবুকের দিকে ঝোঁকেন না তাঁরা।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সস্তার ল্যাপটপ বাজারে এনে এ বার ওই গ্রাহকদের নিজের দিকে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে অ্যাপ্ল। তা ছাড়া যাঁরা প্রথম বার মার্কিন টেক জায়ান্টটির তৈরি করা ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন, তাঁদের জন্যও ম্যাকবুক নিও আদর্শ হতে চলেছে। এর মাধ্যমে দ্রুত ম্যাক ওএস অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে একাত্ম হতে পারবেন তাঁরা। এক কথায় গোটা বিষয়টাকে অ্যাপ্লের ‘ব্যবসার কৌশল’ (মার্কেটিং স্ট্যাটেজি) হিসাবে বর্ণনা করেছেন বিশেষজ্ঞেরা।