ঘুরে আসুন পড়শি রাজ্যের স্বল্পচেনা এক ঠিকানা থেকে। ছবি: সংগৃহীত।
ছুটি নিয়ে টানাটানি? ক্যালেন্ডারর পাতা বলছে ২৬ জুন শুক্রবার মহরম, ছুটির দিন। তার সঙ্গে শনি এবং রবি জুড়লেই, টানা তিন দিন ছুটি। তার সঙ্গে যদি বৃহস্পতিবারের রাতটা যাত্রা শুরুর জন্য কাজে লাগানো যায়, দিব্যি সপ্তাহান্ত ভ্রমণ হতে পারে। কিন্তু যাওয়া যায় কোথায়?
উত্তরবঙ্গে খাতায়কলমে বর্ষা ঢুকলেও, দক্ষিণবঙ্গে খটখটে। আর হুট বললেই ট্রেনের টিকিটও মেলে না। তা হলে চলুন অংশুপা। পড়শি রাজ্যে ওড়িশার কটকের দূরত্ব প্রায় ৪২০ কিলোমিটার। সেখান থেকে অংশুপা আরও ৫০ কিলোমিটার। রাত ১১টা বা ১২টাতেও যদি কেউ গাড়ি নিয়ে যাত্রা শুরু করেন, পৌঁছে যাবেন পর দিন ভোরে। আছে একাধিক ট্রেনও।
বাঁকি ব্লকের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে মহানদী। তারই বাঁ দিকে অংশুপা,সুবিশাল এক হ্রদ, যাকে ছুঁয়ে গিয়েছে পাহাড়। পাহাড় আর হ্রদের মেলবন্ধন চিরকালই আকর্ষণীয়। এই জায়গায় সৌন্দর্য বাড়িয়েছে নির্জনতা।
ছবি: সংগৃহীত।
কটক থেকে রাজ্য সড়ক ধরে গেলে পড়বে আতাগড়। আতাগড় এবং বাঁকি ব্লকের মধ্যেই হ্রদ অংশুপা। এই জলাশয় ঘিরে নানা কাহিনি রয়েছে। কেউ বলেন, এর অশ্বক্ষুরাকৃতির জন্য এমন নাম। কেউ বলেন, জলাশয়ে ফুটে থাকা পদ্ম আর রোদের ঝিকিমিকি প্রতিফলন থেকে এমন নাম। তবে নামের কারণ যা-ই হোক, এখানকার শান্ত পরিবেশ ক্লান্ত জীবনে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেবেই।
হ্রদের পশ্চিমে সারান্ডা পাহাড়, উত্তর-পূর্বে বিষ্ণুপুর পাহাড়। সারান্ডা পাহাড়ের গায়েই রয়েছে একটি পুরনো দুর্গের ধ্বংসাবশেষ। সারান্ডার রাজা এই দুর্গ তৈরি করিয়েছিলেন বলে শোনা যায়।
হ্রদে নৌ-বিহারের সুযোগ রয়েছে। একেবারে ভোর কিংবা সূর্যাস্তের সময়টাই এ জন্য বেছে নিন। হেঁটে ঘুরতে পারেন আশপাশের চত্বর। শীতের দিনে এই হ্রদ হয়ে ওঠে অজস্র পাখির বিচরণক্ষেত্র। পদ্মও ফোটে হ্রদের জলে।
অংশুপায় নৌবিহারেরও সুযোগ রয়েছে। ছবি:সংগৃহীত।
বেশি ঘোরাঘুরি নয়, ছোট্ট ছুটিতে খানিক বেড়ানো, খানিক নির্জনতার খোঁজের জন্যই অংশুপা। অংশুপা থেকে ফেরার পথে কটকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামাঙ্কিত মিউজ়িয়াম এবং কটকচণ্ডীর মন্দির-সহ শহরের অন্য দর্শনীয় স্থানগুলি দেখে নিন।
কোথায় থাকবেন?
অংশুপার হ্রদের কাছেই ওড়িশা সরকারের অতিথি নিবাস রয়েছে। জায়গাটি গাছগাছালি ঘেরা, শান্ত এবং সুন্দর।
কী ভাবে যাবেন?
গাড়ি এবং ট্রেন দুই ভাবেই যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে সড়কপথে কটক হয়ে যেতে পারেন। ভোরের বন্দেভারত ধরে কটক পৌঁছে বাকি রাস্তা গাড়িতে যাওয়া যায়। গাড়ি করে যাতায়াত করলে ফেরার সময় কটক ঘুরে নিন।