Kolkata’s Hidden Gem

কলকাতার বুকেই এক টুকরো দক্ষিণ ভারত, রাজার স্মৃতি আগলে সেজে উঠেছে মহীশূর উদ্যান

ধর্মতলা থেকে মহীশূর উদ্যানের দূরত্ব বড় জোর সাড়ে তিন-চার কিলোমিটার হলেও, ক’জনই বা সেই জায়গা দেখেছেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭
কলকাতার বুকে‌ই রয়েছে এমন জায়গা, ঘুরে দেখেছেন কি?

কলকাতার বুকে‌ই রয়েছে এমন জায়গা, ঘুরে দেখেছেন কি? ছবি: সংগৃহীত।

চেনা কলকাতার, চেনা অলিগলি। তবু সামনে থেকেও অচেনা রয়ে যায় এই শহরের খুঁটিনাটি। কালীঘাটের মন্দিরের কথা সকলেই জানেন। কিন্তু সেই মন্দিরের অদূরে নিঃশব্দে দক্ষিণ ভারতীয় রাজার স্মৃতি বয়ে নিয়ে চলেছে যে উদ্যান, তার খবর ক’জনই বা রাখেন!

Advertisement

কলকাতার দ্রষ্টব্য বললে, ভিক্টোরিয়া, চিড়িয়াখানা, জাদুঘরের নামই আসে আগে। এখন অবশ্য জুড়েছে ইকোপার্ক, এয়ারক্র্যাফ্‌ট মিউজ়িয়ামের মতো নতুন কিছু স্থান। কিন্তু ধর্মতলা থেকে মহীশূর উদ্যানের দূরত্ব জোর সাড়ে তিন-চার কিলোমিটার হলেও, ক’জনই বা সেই জায়গা দেখেছেন?

দক্ষিণী নির্মাণ শৈলী বিষ্ণু মন্দিরে।

দক্ষিণী নির্মাণ শৈলী বিষ্ণু মন্দিরে। ছবি:সংগৃহীত।

এক সময় বাংলার নৌ বাণিজ্য চলত যে আদিগঙ্গা দিয়ে, তারই পাশে তৈরি হয়েছিল মহীশূর রাজের স্মৃতি বিজড়িত উদ্যান। শোনা যায় তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড এলগিনের সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন মহীশূরের রাজা চামরাজেন্দ্র ওয়াদিয়ার।

মহীশূরের ‌এই মহারাজা ছিলেন শিক্ষানুরাগী। তিনি নারীশিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছিলেন। শোনা যায়, স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গেও তাঁর সখ্য গড়ে উঠেছিল। কলকাতাতেই ডিপথেরিয়া হয়ে ৩৩ বছর বয়সে প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি। রাজা বলে কথা। লোকমুখে শোনা যায়, তাঁর দাহকাজের জন্য কেওড়াতলা শ্মশানের বেশ কিছুটা অংশ কিনে নেওয়া হয়। সেখানে তৈরি হয় ঘাট। আর তৈরি হয় উদ্যান, যার একপ্রান্তে রয়েছে বিষ্ণুমন্দির। সেই স্মৃতি নিয়েই দাঁড়িয়ে মহীশূর উদ্যান, যেখানে গেলে মনে হবে এ যেন এক টুকরো দক্ষিণ ভারত।

মহীশূর উদ্যানের প্রবেশপথের তোরণ।

মহীশূর উদ্যানের প্রবেশপথের তোরণ। ছবি: সংগৃহীত।

কর্নাটকের মহীশূরের মতো রাজকীয় প্রাসাদ না হলেও, উদ্যানের তোরণ থেকে মন্দিরে দক্ষিণভারতীয় শিল্পের ছাপ স্পষ্ট। রাস্তার উপরেই সাদা রঙের কারুকাজ করা সুউচ্চ তোরণ। তারই মাথায় গজলক্ষ্মীর রিলিফ। মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে ভিতরে গেলেই চোখে পড়ে কেয়ারি করা বাগিচা। বাঁধাই রাস্তা। ফুল, ফোয়ারা, সযত্নে ছাঁটা গালিচার মতো ঘাস— এই স্থানের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।

এখান থেকেই চোখে পড়বে কর্নাটকি স্থাপত্যরীতিতে তৈরি শ্বেতশুভ্র বিষ্ণুমন্দির। এর সঙ্গে কর্নাটকের হাসান জেলার হালেবিদু শহরের মন্দির নির্মাণ শৈলী এবং স্থাপত্যের সাদৃশ্য রয়েছে। ভিতরে রয়েছে কষ্টিপাথরে তৈরি বিষ্ণুর অবতার। মন্দির গাত্রে নানা স্থানে রয়েছে কষ্টিপাথরের নানা মূর্তি। পাশেই রয়েছে ছোট্ট সাদা রঙের শিব মন্দির।

উদ্য়ানের ভিতরের বিষ্ণু মন্দির।

উদ্য়ানের ভিতরের বিষ্ণু মন্দির। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

একসময় এই চত্বর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছিল। তবে কলকাতা পুরসভা দায়িত্ব পাওয়া পরে সেই স্থান যত্নে রক্ষা করা হচ্ছে। উদ্যান প্রাচীরের পাশেই নবরত্ন এবং কৃষ্ণকালী মন্দির। উদ্যান থেকে তা দেখা গেলেও সেখানে প্রবেশের অনুমতি নেই।

তবে শীতের দিনে একবেলা সময় থাকলেই ঘুরে নিতে পারেন শহরের বুকে রয়ে যাওয়া ভিন রাজ্যের রাজার স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি। কালীঘাটে বেড়াতে এলেও হাঁটাপথে এখানে চলে আসতে পারেন।

কখন খোলা থাকে?

সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আবার উদ্যান খোলে বিকাল ৪টেয়। খোলা থাকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

কী ভাবে যাবেন?

কালীঘাট থেকে চেতলা যাওয়ার পথে পড়বে টালিগঞ্জ রোড, সেই রাস্তাতেই রয়েছে মহীশূর উদ্যান। হাওড়া স্টেশন থেকে টালিগঞ্জ বা কেওড়াতলা যাওয়ার বাসে উঠে কেওড়াতলা মহাশ্মশান স্টপেজে নামতে পারেন। সেখান থেকে মহীশূর উদ্যান হাঁটা পথ। মেট্রোতে কালীঘাট পৌঁছে অটো ধরে যেতে পারেন।

Advertisement
আরও পড়ুন