ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
সাকুল্যে ৪৪ বর্গফুট। সেটিও নাকি ‘বাড়ি’! সেই দেশলাই বাক্সের মতো ঘরটির ভাড়া শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর বলে পরিচিত নিউ ইয়র্কের এমন একটি বাড়ির চেহারা প্রকাশ্য এসেছে যা দেখে হতবাক হবেন আপনিও। ভাবুন তো, এমন একটি বাড়ি যেখানে রান্নাঘর নেই, শৌচাগার পর্যন্ত নেই। অথচ সেই বাড়িতেই বাস করেন এক মহিলা। সেই ঘরের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
এই ভিডিয়োটি শেয়ার করেছেন মার্কিন নেটপ্রভাবী ক্যালেব সিম্পসন। তাঁকে এক মহিলা মাত্র ৪৪ বর্গফুটের ছোট্ট ঘরটি ঘুরিয়ে দেখান। ঘরটিতে কোনও রান্নাঘর বা আলাদা বাথরুম নেই। একটি ছোট সিঙ্ক বসানো আছে, কিন্তু বাকি সব সুযোগ-সুবিধা ঘরের বাইরে রাখা। ঘরটি এতটাই ঘিঞ্জি যে সব কিছু যেন একসঙ্গে গাদাগাদি করে রাখা।
পায়রার খোপের মতো ছোট্ট ঘরে বসবাসকারীর নিজস্ব একটি বাথরুম পর্যন্ত নেই। তাঁকে করিডরের শৌচাগারটি ব্যবহার করতে হয়। সেটি আরও পাঁচ জনের সঙ্গে ভাগ করে নেন তরুণী। এই ছোট্ট ঘরটির জন্য তরুণীকে প্রতি মাসে ১,২০০ ডলার দিতে হয়, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার টাকার সমান। ঘরটিতে স্থান এতই কম যে কোনও খাট ঢোকানো সম্ভব না তাতে। তাই ঘুমোনোর জন্য একটি মাচা-বিছানা তৈরি করেছেন। সেখানে পৌঁছোনোর জন্য একটি ছোট মই বেয়ে উঠতে হয় তাঁকে। জায়গার অভাব পূরণ করতেই এই ব্যবস্থা। সীমিত জায়গা এবং সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকা সত্ত্বেও, তরুণী এই ঘর নিয়ে খুশি বলেই মনে হয়। ঘরটিকে সুন্দর করে তোলার জন্য তিনি পোস্টার, জামাকাপড় এবং ছোটখাটো শোপিস দিয়ে সাজিয়েছেন। তিনি বলেন যে, এই ঘরের পরিবেশ তাঁর ভাল লাগে এবং এই ছোট জায়গাটিতে তিনি স্বস্তি খুঁজে পান।
ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার বন্যা বয়ে যায়। অনেক নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী এটিকে একটি ‘আলমারি’ এবং ‘কারাগারের মতো জায়গা’ বলে বর্ণনা করেছেন। এক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘এত ছোট একটি ঘরের জন্য এত বেশি ভাড়া নেওয়া অন্যায্য।’’ দ্বিতীয় জন বলেছেন, ‘‘এটা কোনও বাড়ি নয়, শুধু চার দেওয়াল।’’