ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
আরপিএফের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে একটি পুকুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লুকিয়ে রইলেন ট্রেনের ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি। জলের নীচে আপাদমস্তক ঢাকা দিয়ে থাকার সময় পদ্মডাঁটির সাহায্যে নিঃশ্বাস নিয়ে প্রাণ বাঁচালেন ওই ব্যক্তি। এত চেষ্টা করেও গ্রেফতারি এড়াতে পারলেন না তিনি। পুকুর থেকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় রেলপুলিশ। অভিযুক্তকে জল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা ভাইরাল হয়েছে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ট্রেনে এসি কোচে উঠে মহিলাদের নিশানা করতেন তিনি। দামি জিনিস ও গয়না হাতিয়ে চম্পট দিতেন। একাধিক অভিযোগ পেয়ে তাঁকে ধরার জন্য মধ্যপ্রদেশের সিহোরা রেলস্টেশনে একটি ফাঁদ পাতে আরপিএফ। রেলপুলিশ তাঁকে ধরতে আসছে বুঝতে পেরেই ব্যারিকেড এড়িয়ে রেললাইনের দিকে দৌড়ে পালান। গ্রেফতারি এড়াতে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে তিনি একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। আরপিএফ কর্মীরা পুকুরটিতে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। কিন্তু অভিযুক্ত জলের গভীরে লুকিয়ে থাকায় ও অন্ধকার হওয়ায় তাকে খুঁজে বার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ ক্ষণ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে লাভ না হওয়ায় সহায়তার জন্য ডুবুরিদের ডাকা হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টার পর অবশেষে অভিযুক্তকে খুঁজে পাওয়া যায়। তাঁকে জল থেকে টেনে তোলা হয়।
ভিডিয়োটি ‘এজনিউজ়’ নামের একটি সংবাদমাধ্যমের এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। রেলের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির এত ক্ষণ ধরে জলের নীচে লুকিয়ে থাকার অভিনব কৌশলটি তাঁদের বিস্মিত করেছে। কারণ ওই ব্যক্তি শ্বাস নেওয়ার জন্য একটি পদ্মের ফাঁপা ডাঁটি ব্যবহার করছিলেন। এর ফলে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাপটি মেরে বসে শ্বাস নিতে পেরেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার যে, তিনি ট্রেনের এসি কোচে ভ্রমণকারী মহিলাদের ‘টার্গেট’ করতেন। উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরের বাসিন্দা এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় দু’ডজনেরও বেশি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে বলে রেল সূত্রে খবর।