— প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের নির্দেশে এ বার বনগাঁ শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী হল প্রশাসন। পাশাপাশি, বেআইনি ই-রিকশা (টোটো) নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বনগাঁ মহকুমাশাসকের দফতরে রোড সেফটি কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
গত ২২ জুন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর সমস্ত পুরসভার মতো বনগাঁ পুরসভাকেও নির্দেশ দেয়, পুর এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথমে দখলকারীদের নোটিস দিয়ে স্বেচ্ছায় কাঠামো ও দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ১৫ দিন পরে চূড়ান্ত নোটিস দেওয়া হবে। তার পরেও দখল না সরালে পুরসভা আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ করবে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে মহকুমাশাসক শুভম মৌর্য, পুরপ্রধান দিলীপ মজুমদার, পূর্ত দফতর, পুলিশ এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পরে পুরপ্রধান জানান, দু’এক দিনের মধ্যেই পুরসভার পক্ষ থেকে মাইকে প্রচার চালিয়ে ফুটপাত ও রাস্তার ধারের সরকারি জমির দখলকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করা হবে। পরে প্রশাসন, পরিবহণ দফতর ও পুরসভার যৌথ সমীক্ষার ভিত্তিতে দখলদারদের চিহ্নিত করে নোটিস দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, গোটা প্রক্রিয়াই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেই করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই বনগাঁ শহরে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা। প্রশাসনের মতে, ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকান, রাস্তার ধারে বেআইনি পার্কিং এবং অনিয়ন্ত্রিত টোটো চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।
পুরপ্রধান দিলীপ বলেন, ‘‘বনগাঁ শহরে অনুমোদিত টোটোর সংখ্যা প্রায় ছ’হাজার হলেও, অতিরিক্ত প্রায় দেড় হাজার টোটো অনুমোদন ছাড়াই চলছে। সেগুলি চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ বৈঠকে যশোর রোডের দু'পাশের গাছে ঝুলে থাকা শুকনো ও বিপজ্জনক ডাল দ্রুত ছেঁটে ফেলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।