—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ দেশে তেল গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা বেড়েছে। গৃহস্থালির ব্যবহারের গ্যাস সিলিন্ডার ন্যূনতম ২৫ দিন আগে ফের বুকিং নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশিকা জারি হয়েছে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ হোটেল, রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরা।
পর্যটনের উপরেই সুন্দরনের গোসাবা, বাসন্তীর বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ নির্ভরশীল। দেশ-বিদেশের নানা এলাকা থেকে পর্যটকেরা সারা বছর আসেন সুন্দরবন ভ্রমণে। বাসন্তী, গোসাবা, ঝড়খালি, পাখিরালয়, দয়াপুর এলাকার হোটেল, হোম-স্টেতে থাকেন। শীত বিদায় নিলেও সুন্দরবনের পর্যটন মরসুম এখনও চলছে। এই পরিস্থিতি রান্নার গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ঝড়খালির হোটেল মালিক সুধাংশু জানা, নিলয় মণ্ডলেরা বলেন, “মার্চ ও এপ্রিল মাসে প্রচুর বুকিং রয়েছে। কিন্তু কী ভাবে পর্যটকদের জন্য রান্নাবান্না হবে বুঝতে পারছি না। গ্যাসের দাম বাড়ল, কিন্তু তারপরেও চাহিদা মতো মিলছে না। গ্যাস না পাওয়া গেলে হোটেল বন্ধ করতে হবে।” ভ্রমণের সময়ে লঞ্চ বা ভুটভুটিতেই পর্যটকদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। গ্যাসের জোগান নিয়ে চিন্তায় তাঁরাও। সুন্দরবন পিউপিল ওয়াটার সোসাইটির সম্পাদক উপানন্দ বৈদ্য বলেন, “গ্যাসের জোগানে টান পড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা না করা হলে সুন্দরবনের পর্যটনে সমস্যা হতে পারে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর বলেন, “অবিলম্বে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের উচিত, এই সমস্যার সমাধান করা। রান্নার গ্যাসের জোগান বাড়ানো। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের পাশাপাশি গৃহস্থালির সিলিন্ডারের জোগানও বাড়ানো দরকার। গ্যাসের জন্য বহু মানুষ প্রতি দিন গুদামে চলে আসছেন ফাঁকা সিলিন্ডার নিয়ে। হেনস্থা হতে হচ্ছে তাঁদের।”