কাকদ্বীপে ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ রেলওয়ে পার্কিং সার্ভিস প্রোভাইডার’-এর শীতবস্ত্র এবং খাবার বিতরণ শিবির। — নিজস্ব চিত্র।
বুধবার ভোর থেকেই গঙ্গাসাগরে শুরু হয়েছে পূণ্যস্নান। তার আগে থেকেই বহু পূণ্যার্থী পৌঁছোতে শুরু করে দেন সাগরদ্বীপে। ট্রেনে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার কাকদ্বীপ স্টেশন হয়েও অনেকে যাচ্ছেন পূণ্য অর্জনের আশায়। এই শীতের মরসুমে গঙ্গাসাগরমুখী ওই পূণ্যার্থীদের যাতে কোনও সমস্যা না, তা নিশ্চিত করতে তৈরি ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ রেলওয়ে পার্কিং সার্ভিস প্রোভাইডার’ও। কাকদ্বীপ স্টেশনের পাশে তৈরি শিবির থেকে পূণ্যার্থীদের হাতে সংগঠনের তরফে তুলে দেওয়া হয় শীতবস্ত্রও। করা হয় জলখাবার এবং সাময়িক বিশ্রামের ব্যবস্থাও।
‘অ্যাসোসিয়েশন অফ রেলওয়ে পার্কিং সার্ভিস প্রোভাইডার’-এর সদস্যেরা কাকদ্বীপ স্টেশনে দু’দিনের জন্য একটি অস্থায়ী শিবির চালু করেন। শিবিরের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক তাপসকুমার দাস, সভাপতি শেখর ঘোষ, যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ সোমনাথ বিশ্বাস এবং সংগঠনের অন্যতম সদস্য সোনালি ঘোষ। গত সোম এবং মঙ্গলবার (১২ এবং ১৩ জানুয়ারি) চলে এই শিবির। সেখান থেকেই পূণ্যার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শীতবস্ত্র এবং কম্বল। অস্থায়ী শিবিরে তাঁদের জন্য পানীয় জল, চা, কফি, বিস্কুট এবং শুকনো খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। দেওয়া হয় চিঁড়েভাজা, চানাচুর, বাদাম।
কাকদ্বীপ স্টেশনে সংগঠনের তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হয় রেল আধিকারিকদেরও। —নিজস্ব চিত্র।
সোমবার দুপুর ১২টে থেকে শুরু হয় শিবির। পূণ্যার্থীদের জন্য রাত ৯টা পর্যন্ত, ছ’ঘণ্টা খোলা ছিল সেটি। পরের দিন ফের সকাল ৬টা থেকে চালু হয় শিবির। চলে সকাল ১০টা পর্যন্ত। এর পরে সকাল ১১টে থেকে বিকেল ৪টা এবং এক ঘণ্টা বিরতির পরে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার এবং শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয় সংগঠনের তরফে।
দু’দিনের এই শিবিরে অতিথি হিসাবে আমন্ত্রিত ছিলেন রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের প্রিন্সিপাল চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার। সস্ত্রীক ওই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ছিলেন কাকদ্বীপের স্টেশন মাস্টার এবং বুকিং সুপারভাইজ়রও। এ ছাড়া আরপিএফ এবং জিআরপি-র আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। সাগরদ্বীপের মেলা উপলক্ষ্যে অন্য ডিভিশনের আধিকারিকেরাও অতিথি হিসাবে আমন্ত্রিত ছিলেন শিবিরে। সকল রেল আধিকারিকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় সেখানে।