আরাবুল ইসলাম। ফাইল চিত্র।
সদ্য তৃণমূল ত্যাগ করে আইএসএফে যোগ দিয়ে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার প্রার্থী হয়েছেন আরাবুল ইসলাম। তিনি নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে বার বার অভিযোগ করছিলেন, শাসক দল বিভিন্ন সময়ে প্রচারে বাধা দিচ্ছে, হামলা চালাচ্ছে। চন্দনেশ্বরে তাঁর র্যালিতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে। নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরাপত্তারক্ষীর জন্য আবেদন করেন আরাবুল।
সেই মতো রবিবার থেকে তাঁর একজন সশস্ত্র রক্ষীর ব্যবস্থা করা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। রবিবার ওই নিরাপত্তা রক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে আরাবুল ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার তাড়দহ এলাকায় প্রচারে যান।
এর আগে আরাবুলের দু’জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী ছিল। ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনে আইএসএফ-তৃণমূলের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৭ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরে ২০২৪ সালে আইএসএফ কর্মী মহিউদ্দিন মোল্লাকে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরাবুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিরাপত্তারক্ষীও তুলে নেওয়া হয়।
প্রায় দু’বছর পরে তিনি আবারও নিরাপত্তারক্ষী পেয়ে সন্তুষ্ট আরাবুল। বললেন, ‘‘আমাকে হুমকি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। কমিশন আমার আর্জি শুনে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করায় আমি খুশি।’’
ভোট ঘোষণা হওয়ার পর দিন কয়েক আগে ভাঙড়ের প্রায় এক ডজন তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা রক্ষী তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশন। যদিও প্রশাসন জানিয়েছিল, ওই সমস্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ছিল, কেউ কেউ বিভিন্ন সময়ে জেল খেটেছিলেন। সে কারণে তাঁদের নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়। ওই তালিকায় ছিলেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী বাহারুল ইসলামও।
ওই তৃণমূল নেতারা প্রশ্ন তুলছেন, আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধেও একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এমনকি, তিনি খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেল খেটেছেন।
এ বিষয়ে বাহারুলের প্রতিক্রিয়া, ‘‘প্রথমে আমার নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হলেও পরে আবার দু’জন নিরাপত্তা রক্ষীর ব্যবস্থা করা হয়েছে কমিশনের নির্দেশে। যে কোনও প্রার্থী কমিশনের নির্দেশে নিরাপত্তারক্ষী পেতে পারেন।’’