শাহজাহান শেখ। ফাইল চিত্র।
দু’দিকে বিস্তীর্ণ ভেড়ি, মাঝখান দিয়ে সরু কাঁচা পথ। কারও হাতে ব্যাগ, কারও মাথায় বোঝা। তপ্ত রোদে ক্লান্ত শরীর, তবু মুখে চওড়া হাসি। বহু বছর পরে নিজের গ্রাম, নিজের মাটি চোখের সামনে দেখে কারও চোখের কোণে চিকচিক করছে জল! এ যেন শুধু ঘরে ফেরা নয়, হারানো ভিটেমাটি ফিরে পাওয়ার আবেগও।
বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালির সরবেড়িয়া-আগারহাটি পঞ্চায়েত এলাকায় গত আট বছর ধরে ঘরছাড়া ছিলেন প্রায় ২০০ পরিবার। অভিযোগ, তৃণমূলের তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর অনুগামীদের অত্যাচারে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন সকলে। অভিযোগ, জমি দখল থেকে মারধর—প্রতিবাদ করলেই নেমে আসত শাস্তি। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের পরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ স্থানীয় মানুষের।
ঘরছাড়া আতাউর রহমান বললেন, “এক সময়ে আমরাও তৃণমূল করতাম। দল যখন শক্তিশালী ছিল না, তখনও পাশে ছিলাম। কিন্তু শেখ শাহজাহান ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এলাকা ছাড়তে হয়। বিজেপিকে সমর্থনের কথা বলার পরে আমার পরিবারও অত্যাচারের শিকার হয়েছিল। এত বছর পরে আবার নিজের জায়গায় ফিরলাম।”
চোখে জল নিয়ে সিরাজুল শেখের বক্তব্য, “তৃণমূলকে ভালবেসেই রাজনীতি শুরু করেছিলাম। কিন্তু পরে আমাদের কথা কেউ শোনেনি। শাহজাহান বাহিনীর তাণ্ডবের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। আজ আবার ফিরেছি, কিন্তু এখনও আতঙ্ক কাটেনি।”
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বিজেপি কর্মীদের উদ্যোগে ওই পরিবারগুলির ঘরে ফেরাকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শেখ শাহজাহান এখন অতীত হলেও তাঁর বাহিনীর ভয়ের ছায়া কাটেনি। বিজেপি নেতা সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, ‘‘মানুষের উপরে শাহজাহান যে ভাবে অত্যাচার করেছিল, সন্দেশখালি মানুষ তা ভুলতে পারেননি। অনেকে বাড়িছাড়া ছিলেন। আজ আমরা ফিরিয়ে দিলাম। পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে, শাহজাহান বাহিনী এখন সন্দেশখালিতে দাপিয়ে বেড়ানোর চেষ্টা করলে পদক্ষেপ হবে কড়া।’’
প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী ঝর্না সর্দার বলেন, ‘‘আমি সন্দেশখালিতেই থাকি। এত লোক এতদিন ঘরছাড়া থাকলে নিশ্চয়ই আমার জানা থাকত। ওঁরা ভুল বলছেন, তৃণমূলকে বদনাম করার জন্য।’’