Baduria Municipality Chairman Arrest

বাদুড়িয়ার ধৃত পুরপ্রধানের জমি খুঁড়ে চারটি ট্রলি, বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধার করল পুলিশ! দীপঙ্করকে ধরার সময় উদ্ধার হয় ৮০ লাখ

সোমবার বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানকে একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। তখনও প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার আদালত তাঁকে ছ’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১৬:৩৯
Baduria Municipality Chairman Arrest

(বাঁ দিকে) বাদুড়িয়ার পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হওয়া টাকাভর্তি বস্তা নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ (ডান দিকে)। —নিজস্ব চিত্র।

হোটেল থেকে গ্রেফতার হওয়া বাদুড়িয়ায় পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের পাটের খেতে মাটি খুঁড়ে টাকা উদ্ধার করল পুলিশ। টাকাভর্তি মোট চারটি ট্রলি এবং একটি বস্তা উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে আনুমানিক ৮০ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে। তবে এখনও সব টাকা গোনা শেষ হয়নি।

Advertisement

সোমবার বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানকে একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখনও প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার আদালত তাঁকে ছ’দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার দীপঙ্করকে সঙ্গে নিয়েই তৃণমূল কার্যালয়ের পাশে একটি জমিতে যায় পুলিশ। খেতের একটি জায়গায় মাটি খুঁড়ে ব্যাগভর্তি টাকা উদ্ধার হয়েছে।

পাটের খেতে পুলিশের অভিযানের সময় স্থানীয় কয়েক জন ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চারটি ব্যাগ এবং একটি বস্তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। সব ক’টি ব্যাগের ভিতরেই তাড়া তাড়া ৫০০ টাকার নোট ছিল। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গত ২৪ মে রাতে দীপঙ্করের অফিস এবং তৃণমূল কার্যালয়ে ভ্যানে করে সরকারি ত্রিপল নিয়ে যেতে দেখেছেন। তাঁরাই খবর দেন বাদুড়িয়া থানায়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে দীপঙ্কর এবং তাঁর সহযোগীরা সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ পৌঁছে দেখে, কার্যালয়ের সামনে প্রচুর নথিপত্র আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর পর তল্লাশিতে একটি বাগানবাড়ি থেকে প্রচুর সরকারি ত্রিপল উদ্ধার হয়। সংখ্যাটা দাঁড়ায় প্রায় চার হাজার। ঘটনাক্রমে বিজেপি এবং সিপিএমের পক্ষ থেকে দু’টি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয় দীপঙ্করের বিরুদ্ধে।

সোমবার পুরপ্রধানকে একটি হোটেল থেকে পাকড়াও করার পর সেই রাতেই বাদুড়িয়া পুরসভা পরিচালিত পরিত্যক্ত কম্পিউটার সেন্টার থেকে প্রায় চার হাজার সরকারি ত্রিপল এবং ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। বুধবার উদ্ধার হওয়া টাকার পুরোটা গোনা শেষ হয়নি। আপাতত ব্যাগ এবং বস্তবন্দি টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে থানায়। চিন্ময় কুলবী নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা তথা প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ‘‘কয়েক কোটি টাকা তো হবেই।’’ কী ভাবে এত টাকা পেয়েছিলেন দীপঙ্কর, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেউ বলছেন, আবাসের টাকা সরিয়ে নিয়েছিলেন পুরপ্রধান। কারও অভিযোগ, সবই তোলাবাজির টাকা। পুলিশ তদন্ত করছে।

অন্য দিকে, তোলবাজির অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙায় তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহা গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর বাড়ি থেকে ১৪৩ রাউন্ড ৭ এমএম পিস্তলের গুলি, ৬০ রাউন্ড খালি কার্তুজের খোল, ৫১৭ রাউন্ড গুলি এবং নগদ ২৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে পুলিশ সূত্রে খবর। গ্রেফতার হয়েছেন অজিতের ভাই সুজিত সাহাও।

Advertisement
আরও পড়ুন