SIR Hearing Row

‘ডিএনএ টেস্ট করে বুঝে নিন’, তৃতীয় শুনানিতে ডাক পেয়ে দাদুর কবরের মাটি, ট্রাঙ্কভর্তি নথি নিয়ে হাজির যুবক!

শুনানিকেন্দ্রে ট্রাঙ্কভর্তি নথি এবং মাটি নিয়ে হাজিরা দিলেন জনৈক দাইয়ান গায়েন। তাঁর দাবি, আগে দু’বার এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে তাঁকে। এ নিয়ে তৃতীয় বার হাজিরা দিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৬
SIR Hearing Row

ট্রাঙ্ক মাথায় শুনানিকেন্দ্রে ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা। —নিজস্ব ছবি।

এসআইআর শুনানিকেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইন। কারও হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ, কারও পিঠে ব্যাগ। তাতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় নথি। ঠিক সেই লাইনে মাথায় জং ধরা টিনের ট্রাঙ্ক নিয়ে ঢুকলেন এক যুবক। লাইন থেকে কৌতূহলীরা মুখ বার করে চেয়ে আছেন আগন্তুকের দিকে। সেটা বুঝতে পেরে জং ধরা ট্রাঙ্কের মুখ খুললেন যুবক। তার পর একে একে রুমাল, মাটি, লালচে হয়ে যাওয়া কিছু কাগজ, নিজের কিছু নথি বার করে চিৎকার করলেন, ‘‘আজ সব এনেছি। এ বার ডিএনএ টেস্ট করে বুঝে নিন, আমি এই মাটির লোক।’’

Advertisement

ঘটনাস্থল দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের লোকসভা এলাকা ডায়মন্ড হারবার। শুনানিকেন্দ্রে ট্রাঙ্কভর্তি নথি এবং মাটি নিয়ে হাজিরা দিয়েছেন জনৈক দাইয়ান গায়েন। তাঁর দাবি, আগে দু’বার এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে তাঁকে। এ নিয়ে তৃতীয় বার হাজিরা দিলেন। আর ঠিক কোন কোন প্রমাণ দিতে হবে বুঝতে না পেরে পূর্বপুরুষের কবরের মাটি, ব্যবহার করা জিনিস এবং যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়েছেন। ট্রাঙ্ক খুলে দাইয়ানের নির্ঘোষ, ‘‘এই আমার ঠাকুরদার রুমাল। টেস্ট করে ওরা বুঝে নিক। এই যে, এই ব্যাগে ঠাকুরদার কবরের মাটি। ডিএনএ টেস্ট করে নিন। এই মাটিতে হাতে দিতে আমার মায়া লাগে, পূর্বপুরুষের কবরের মাটি তো... বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু প্রমাণ তো দিতেই হবে। বুঝে নিন আপনারা, আমি এখানকার বাসিন্দা।’’

যুবকের কাণ্ডে শোরগোল শুরু হয়ে যায় ডায়মন্ড হারবার-২ ব্লক অফিসে। লোক জমতে থাকে। দাইয়ান জানান, এ নিয়ে তিন বার ডাকা হল তাঁকে। আবার শুনানিতে আসতে বলা হবে কি না জানা নেই। আপাতত প্রমাণ হিসাবে বাড়িতে যা পেয়েছেন, সব এনেছেন। দাইয়ান জানান, তাঁর বাবা-মায়ের পাঁচ সন্তান। এখন তিনি ওই মা-বাবার সন্তান কি না, প্রশ্ন তুলে নোটিস পাঠানো হয়েছে। যুবক বলেন, ‘‘মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি। তাই নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে দাদুর কবরের মাটিও সঙ্গে করে আনলাম।’’

স্থানীয় সূত্রে খবর, সরিষা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭৮ নম্বর বুথ এলাকার বাসিন্দা দাইয়ান। তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে দু’বার নথি জমা করেছেন। তার পরেও ডাক পেয়েছেন। এ নিয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

কিছু দিন আগে মালদহেও একই রকমের ঘটনা ঘটেছিল। সেই জেলার এক ব্যক্তি পূর্বপুরুষের কবর থেকে মাটি তুলে শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দিয়েছিলেন।

Advertisement
আরও পড়ুন