Basirhat Municipality

শংসাপত্র পেতে হয়রানির অভিযোগ বসিরহাটে

বাসিন্দাদের দাবি, আগে বিভিন্ন শংসাপত্র পেতে স্থানীয় পুর প্রতিনিধিদের অফিস বা বাড়িতে গেলেই হত। এখন সেই কাজেই অনেক বেশি সময় লাগছে।

অর্ণব ব্রহ্ম
শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৬
বসিরহাট পুরসভা। — নিজস্ব চিত্র।

বসিরহাট পুরসভা। — নিজস্ব চিত্র।

দুর্নীতি-সহ পরিষেবা সংক্রান্ত নানা অভিযোগের জেরে দিন কয়েক আগে বসিরহাটের তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড ভেঙে দিয়েছে রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। আপাতত পুরসভা চালাতে প্রশাসক বসানো হয়েছে। দায়িত্বভার সামলাচ্ছেন বসিরহাটের মহকুমাশাসক। তবে এর মধ্যেই পুর পরিষেবা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। জন্ম, মৃত্যু-সহ বিভিন্ন শংসাপত্র পেতে হয়রান হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের একাংশের।

বাসিন্দাদের দাবি, আগে বিভিন্ন শংসাপত্র পেতে স্থানীয় পুর প্রতিনিধিদের অফিস বা বাড়িতে গেলেই হত। এখন সেই কাজেই অনেক বেশি সময় লাগছে। নানা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। সম্প্রতি উত্তরাধিকার শংসাপত্র নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন বসিরহাটের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুস্মিতা কুন্ডু। তিনি বলেন, “ওয়ারিশন সার্টিফিকেট পেতে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয়েছে। প্রথমে ফর্ম ফিলাপ করতে হয়েছে পুরসভায় গিয়ে। এ ছাড়াও, গ্রামের পাঁচ জনের সই লেগেছে। তারপরে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এফিডেফিট করে শংসাপত্র মিলেছে। এত দিন তো স্থানীয় পুর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সহজেই পাওয়া যেত।” ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রসেন মণ্ডল বলেন, “এক সপ্তাহ আগে দুর্ঘটনায় আমার ছেলের মৃত্যু হয়। মৃতদেহ নিয়ে আসতে দরকার ছিল পুরসভার অনুমোদনপত্র। কাউন্সিলরের কাছেই তা পাওয়ার কথা। কিন্তু এখন পুরসভা থেকে নিতে হবে। শনিবার পুরসভা বন্ধ থাকায় তা পাইনি। ফলে দেহ পেতে সমস্যা হয়।”

বসিরহাট পুরসভার ১৬ ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি তন্ময় দফাদার বলেন, “পুর বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসায় মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যে কোনও শংসাপত্র নিতে গেলে ৩-৪ জন আধিকারিকের সই লাগছে। তার মধ্যে ছুটির দিনগুলিতে কেউ মারা গেলে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র মিলছে না।”

পুরসভার প্রশাসন তথা মহকুমাশাসক জসলিন কৌর বলেন, “আমরা কয়েকটি নিয়ম ধাপে ধাপে তৈরি করেছি। সবে মাত্র আমরা দায়িত্ব পেয়েছি, এত বড় জায়গা বুঝতে একটু সময় লাগছে। আশা করি, কিছু যে সমস্যা আছে, সেগুলি মাসখানেকের মধ্যে মিটে যাবে।”

আরও পড়ুন