কলকাতা হাই কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকে ২০১১ সালের আগে যাঁরা নিযুক্ত হয়েছিলেন, সেই শিক্ষকদের টেট পরীক্ষায় বসা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক, এই দাবিতে ফের সরব হলেন প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশ। মঙ্গলবার এই দাবি তুলে সল্টলেকেরকরুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত মিছিল করে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি ট্রেন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’।পরে তারা বিকাশ ভবনে স্মারকলিপিও দেয়।
ওই শিক্ষকেরা জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সমস্ত প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষকদের টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক। যাঁরা টেট পাশ করেননি, তাঁদের আগামী দু’বছরের মধ্যে তা পাশ করতে হবে। শুধুমাত্র যাঁদের চাকরির মেয়াদ ফুরোতে পাঁচ বছর বাকি আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৭০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তাঁরা আরও দাবি করছেন, ২০১১ সালের আগে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে নিযুক্ত শিক্ষকেরা সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের আওতায় পড়ছেন না। তাই রাজ্য সরকার যখন টেট পাশহীন শিক্ষকদের নাম কেন্দ্রের কাছে পাঠাবে, তখন এই শিক্ষকদের নাম পাঠানো যাবে না।
২০১১ সালের আগে নিযুক্ত হওয়া শিক্ষকেরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের আওতায় পড়ছেন না বলে কেন মনে করছেন? প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠনগুলির দাবি, ২০১১ সালের ২৯ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতেই বলা ছিল, যে সব রাজ্যে ওই বছরের আগে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছে, সেই রাজ্যগুলিতে ২০০১ সালের নিয়োগ-নীতি অনুযায়ী ছাড় দিতে হবে।
‘ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি ট্রেন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর রাজ্য সভাপতি পিন্টু পাড়ুই বলেন, ‘‘আমরা বিকাশ ভবনের কর্তাদের স্মারকলিপি দিয়ে জানিয়েছি, এই রাজ্যে ২০১১ সালে যে নিয়োগ হয়েছিল, তার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে পরীক্ষা হওয়া, প্যানেল তৈরি— সবই হয়েছিল ২০১০ সালে। কিন্তু প্যানেল প্রকাশ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা হওয়ার কারণে আমাদের নিয়োগ হয় ২০১১ সালের পরে। তাই ওই নিয়োগকে ২০১১ সালের আগেই বলতে হবে।২০০১ সালে প্রাথমিকের নিয়োগ-নীতিতে টেট ছিলই না।’’ পিন্টুর দাবি, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার সব রাজ্যকে বলেছে, যে শিক্ষকেরা টেট পাশ করেননি, তাঁদের নামের তালিকা আগামী ১৬ জানুয়ারির মধ্যে পাঠাতে হবে। শিক্ষকদের দাবি, যাঁদের নিয়োগ-প্রক্রিয়া ২০১১ সালেরআগে হয়েছে, তাঁদের নাম পাঠানো যাবে না।
‘বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা বলেন, ‘‘২০১১ সালের আগে প্রাথমিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে টেট ছিল না। ২০০১ সালে প্রাথমিকে যে নিয়োগ-নীতি ছিল, সেই অনুযায়ী নিয়োগ হত ১০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা, মাধ্যমিকের ফল এবং প্রাথমিকে শিক্ষক-প্রশিক্ষণের উপরে ভিত্তি করে। সেই পদ্ধতিতেই প্রাথমিক শিক্ষকেরা চাকরি পেয়েছেন। এত বছর প্রাথমিক স্তরে পড়ানোর পরে ফের টেট পাশ করতে বলা তাঁদের কাছে অত্যন্ত অসম্মানজনক।’’
‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’র এক নেতার কথায়, ‘‘রাজ্যে কত জন টেট পাশহীন শিক্ষক আছেন, তা ১৬ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে বলেছে কেন্দ্র। ১৬ জানুয়ারি তো চলেই এল। শিক্ষা দফতর কি সদর্থক কোনও ভূমিকা নিয়েছে? রাজ্য কী পদক্ষেপ করছে, কাদের নাম পাঠাচ্ছে— তার কিছুই শিক্ষকেরা জানতে পারছেন না। গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড উদ্বেগে আছেন প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের কয়েক লক্ষ শিক্ষক।’’ যদিও শিক্ষা দফতর সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং আইনজীবীদের পরামর্শও নিচ্ছে।