মণিপুরের উখরুলে নিহত মালদহের যুবক মিঠুন মণ্ডলের (ইনসেটে) শোকার্ত স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল। নিজস্ব চিত্র ।
মণিপুরের উখরুল জেলার মংকট চেপু এলাকায় আজ টহলদারির সময়ে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারালেন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাঙালি কনস্টেবল মিঠুন মণ্ডল (৩৪)। তাঁর বাড়ি মালদহের মোথাবাড়ির উত্তর লক্ষ্মীপুরের ভাগজানটোলা গ্রামে।
মণিপুরে মেইতেই বনাম কুকিদের দীর্ঘ সংঘর্ষের তেমন প্রভাব পড়েনি নাগা অধ্যুষিত উখরুলে। কিন্তু উখরুলে নাগা জঙ্গি সংগঠন এনএসসিএন আইএম-এর দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ চলছে। সম্প্রতি সেই গোষ্ঠী-সংঘর্ষে চার জঙ্গি মারাও যায় ওই এলাকায়। মনে করা হচ্ছে, আজ দুই গোষ্ঠীর জঙ্গিদের গুলি-বিনিময়ের মধ্যে পড়েই প্রাণ হারাতে হল মিঠুনকে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিএসএফের ১৭০ ব্যাটালিয়নের এ কোম্পানিতে কর্মরত মিঠুন আজ টহলদারির সময়ে আচমকা গুলিবিদ্ধ হন। বিএসএফ জানায়, লিটন থানা এলাকার সিকিপুং ও মংকোট চেপু এলাকার মধ্যবর্তী অংশে মিঠুন টহল দিচ্ছিলেন। তখনই নিটকবর্তী পাহাড়ে জঙ্গিদের দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। সম্ভবত লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি ছুটে এসে লাগে মিঠুনের গায়ে। শার্কাফুং অঞ্চল থেকে গুলিটি ছোড়া হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। গুলিবিদ্ধ মিঠুনকে দ্রুত ইম্ফলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও আজ সন্ধ্যায় রিমস্ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
সাত বছর আগে চাকরি পেয়েছিলেন মিঠুন। তাঁর বাবা মন্টু মণ্ডল কৃষিজীবী। মিঠুনের পাঁচ বছরের এক ছেলে এবং তিন বছরের মেয়ে রয়েছে। রাতে তাঁর মৃত্যুসংবাদ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকেরা। মিঠুনের সঙ্গেই প্রতিবেশী গ্রামের এক যুবক মণিপুরে কর্মরত আছেন। তাঁর মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারে পরিবার। মন্টু বলেন, “কী করে এমন হয়ে গেল বুঝতে পারছি না! কী বলব ভেবে পাচ্ছি না!”
মিঠুনের মরদেহ আজ মর্গে রাখা হয়েছে। আগামী কাল ময়না তদন্ত হবে। এই ঘটনায় দায়ী জঙ্গিদের খোঁজে শুরু হয়েছে অভিযান। মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই. খেমচাঁদ সিংহ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে নিহত জওয়ানের পরিবারের উদ্দেশে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকার দোষীদের খুঁজে বার করতে সব রকম প্রয়াস চালাচ্ছে।