(বাঁ দিকে) হুমায়ুন কবীর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে) গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের রোড শো থেকে শনিবার নাম না করে হুমায়ুন কবীরকে আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ জানালেন, ‘গদ্দার’-এর প্রত্যক্ষ ইন্ধনেই অশান্তি হয়েছে বেলডাঙায়।
অভিষেক বলেন, ‘‘খোঁজ নিয়ে দেখলাম, বেলডাঙ্গায় অশান্তিতে ইন্ধন দিচ্ছে বিজেপির বাবুরা। আর একটা গদ্দার তৈরি হয়েছে এই মাটিতে। তারও এতে প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। এই গদ্দারদের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদকে এক হতে হবে। যারা বিভাজনের রাজনীতির বীজ বপন করছে, মানুষের বিরুদ্ধে মানুষকে লেলিয়ে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে।’’
সরাসরি কারও নাম না করলেও ‘গদ্দার’ বলতে যে তৃণমূলের নিলম্বিত (সাসপেন্ড হওয়া) বিধায়ক হুমায়ুনকেই বোঝাতে চেয়েছেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ, তা স্পষ্ট। ইঙ্গিত স্পষ্টতর করে অভিষেক বলেন, ‘‘আজ যে বাবরি মসজিদ নিয়ে রাজনীতি করছে, ২০১৯ সালে সে-ই বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিল। তার প্রকৃত স্বরূপ খুব তাড়াতাড়ি জনসমক্ষে আসবে।’’ পাশাপাশিই মুর্শিদাবাদবাসীকে কোনও প্ররোচনায় পা না দিতেও অনুরোধ করেছেন অভিষেক।
বহরমপুরের রোড শোয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
হুমায়ুনের সঙ্গেই অভিষেকের নিশানায় ছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদকে (২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে) বিজেপির ‘ডামি প্রার্থী’ বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক। গত লোকসভা ভোটে অধীরকে হারিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। তাঁকে বহরমপুরে আসনে দাঁড় করিয়ে চমক দিয়েছিলেন অভিষেক। সে চেষ্টা ফলবতী হয়েছিল। শনিবার অভিষেক বলেন, ‘‘বিজেপির যে ডামি প্রার্থীকে আপনারা হারিয়েছেন, তিনি ২০২৩ সালে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলেন, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখতে চান। বলেছিলেন, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে ভোট দিতে সকলের আগে লাইনে দাঁড়াবেন তিনি। সেই গদ্দারকে তো আপনারা বিদায় দিয়েছেন। আর একটা (হুমায়ুন) নতুন গজিয়েছে, সেটারও গণতান্ত্রিক ভাবে ব্যবস্থা করতে হবে।’’
বেলডাঙার নিহত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন অভিষেক। দলনেতার নির্দেশে শীঘ্রই আলাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ। যাবেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারাও। সমস্ত রকম আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে আলাউদ্দিনের পরিবারকে। জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য প্রশাসনের তরফে কন্ট্রোলরুম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়া। ওই কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে সর্বক্ষণ জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। অভিষেক জানিয়েছেন, এ জন্য হেল্পলাইনও চালু হতে চলেছে। দু’টি নম্বর ঘোষণা করে তিনি বলেছেন, ভিন্রাজ্যে কোনও সমস্যায় পড়লে এই দু’টি নম্বরে ফোন করে নিজেদের সমস্যার কথা জানালেই দ্রুত বাড়ি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে।
বেলডাঙায় অশান্তির সূত্রপাত শুক্রবার। মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিনকে ঝাড়খণ্ডে খুনের অভিযোগে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ১২ নম্বর (সাবেক ৩৪ নম্বর) জাতীয় সড়ক এবং রেলপথ প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। ভাঙা হয় পুলিশের গাড়ি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও আক্রান্ত হন। শুক্রবারের ডামাডোলের পর শনিবার সকাল থেকে ফের উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় অবরোধ করেন বিক্ষোভ দেখান কয়েকশো মানুষ। আবার অবরোধ করা হয় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেটে ভাঙচুর চালান বিক্ষোভকারীরা। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ এলাকায় যান হুমায়ুন। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আর্জি জানান। অবরোধ তুলে নিতেও অনুরোধ করেন। তবে সে সবে চিঁড়ে ভেজেনি। পরে লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত ৩০ জনকে। তবে রেল চলাচল এখনও শুরু হয়নি।
অভিষেকের সভার মধ্যেই এক সমর্থক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি লক্ষ্য করা মাত্র বক্তৃতা থামিয়ে দেন অভিষেক। তড়িঘড়ি উদ্যোগ নিয়ে ওই সমর্থকের জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করেন তিনি। অনুমান করেন, হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ায় ওই সমর্থক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অভিষেক দ্রুত নিজের গাড়ি থেকে লজেন্স আনিয়ে প্রাথমিক শুশ্রূষার নির্দেশ দেন। ওই সমর্থককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।