মানস ভুঁইয়া। —ফাইল চিত্র।
বিধানসভা ভোটে নিজের খাসতালুক সবংয়ে পরাস্ত হওয়ার পরেই বেসুরো হয়েছিলেন। প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এ বার তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। তবে মানস স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দল ছাড়লেও রাজনীতি ছাড়ছেন না তিনি।
শনিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করে মানস বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলে থেকে আর কাজ করার সুযোগ নেই। তাই আমি তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । তবে রাজনীতি ও সমাজসেবা আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ । তাই, আমি রাজনীতি থেকে দূরে যাব না। তবে কী সিদ্ধান্ত নেব, তা আগামী দিনে আমি সবাইকে জানিয়ে দেব।’’ তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো চিঠিতে মানস লিখেছেন, ‘‘আমি এতদ্বারা তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। অনুগ্রহ করে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করুন।’’
প্রসঙ্গত, সবং থেকে মোট সাত বার কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে জয়ী হয়েছিলেন মানস। ২০১৬ সালে জেতার কয়েক মাস পরেই তৃণমূলে গিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছিল তৃণমূল। জোড়াফুল প্রতীকে ২০১৭-য় উপনির্বাচনে জিতেছিলেন মানসের স্ত্রী গীতারানি। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিটে সবং থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন মানস। কিন্তু এ বারের বিধানসভা ভোটের একদা তাঁরই অনুগামী হিসাবে পরিচিত বিজেপি প্রার্থী অমল পাণ্ডার কাছে ১১ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাস্ত হন তিনি। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে মানস বলেছিলেন, ‘‘শুভেন্দু মেদিনীপুরের ছেলে। ওর জন্য আমার গর্ব হয়।’’