Sher Campaign at Subdarbans

বাঘ সংরক্ষণের লক্ষ্যে হাতিয়ার হেঁশেল আর হাঁড়ি! সুন্দরবনে পর্যটক আকর্ষণে কর্মশালার আয়োজন করল ‘শের’

আয়োজক সংস্থার দাবি, জীবিকার উন্নয়নকে সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে এই উদ্যোগ সুন্দরবনের মানুষকে বাঘ ও বাদাবন সংরক্ষণের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ২২:৩৩
কর্মশালা ‘শের’-এর।

কর্মশালা ‘শের’-এর। নিজস্ব চিত্র।

সচেতনতা গড়ে তুলতে শহরে আয়োজিত হল এক অভিনব কর্মশালা। সৌজন্যে, এবং বন্যপ্রাণপ্রেমী সংস্থা ‘সোসাইটি ফর হেরিটেজ অ্যান্ড ইকোলজিক্যাল রিসার্চেস’ (শের)। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনে বিকল্প জীবিকা ও বাঘ সংরক্ষণের মেলবন্ধনের উদ্দেশ্যে তাঁদের এই ‘কমিউনিটি কালিনারি এক্সেলেন্স ইনিশিয়েটিভ’।

Advertisement

‘শের’-এর কর্ণধার জয়দীপ কুণ্ডু জানিয়েছেন, সুন্দরবনের জঙ্গল প্রান্তিক গ্রামের মানুষের বিকল্প জীবিকার জন্য দক্ষতা বৃদ্ধি (স্কিল বিল্ডিং), জঙ্গল নির্ভরতা কমানো এবং বাঘ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে পাশে নিয়ে চলার লক্ষ্যে তাঁদের ‘বাঘবন শের কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টারে আয়োজিত’ হয়েছে দু’দিনের বিশেষ রন্ধন প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল সুন্দরবন ব্যাঘ্রপ্রকল্প সংলগ্ন বনপ্রান্তিক এলাকার বাসিন্দাদের উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত রান্নার দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষিত করা। যাতে তাঁরা সুন্দরবনের ক্রমবর্ধমান পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।

গত এক দশকে সুন্দরবন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণ পর্যটন স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের ক্রমাগত সংখ্যাবৃদ্ধির পাশাপাশি নানান ধরনের খাবার ও রান্নার চাহিদাও বেড়েছে। পর্যটনশিল্পের এই চাহিদাকে মাথায় রেখে বিশেষত জঙ্গল লাগোয়া প্রান্তিক এলাকার যে বাসিন্দারা পর্যটনক্ষেত্রে রান্নার পেশার সঙ্গে যুক্ত তাঁদের জন্যই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

দু’দিনের এই কর্মশালায় ভারতীয় ও বিদেশি বিভিন্ন ধরনের রান্না, আধুনিক রন্ধন কৌশল, নতুন রেসিপির পরিচয়, মেনু পরিকল্পনা প্রভৃতি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় হোটেল, হোমস্টে, লঞ্চের কর্মীদের। প্রশিক্ষণপর্ব পরিচালনা করেন সুপরিচিত শেফ পিনাকী রায়। অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক পেশাদার রন্ধনশৈলীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের রান্নার জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ পান। জয়দীপের দাবি, জীবিকার উন্নয়নকে সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে এই উদ্যোগ সুন্দরবনের মানুষকে বাঘ ও বাদাবন সংরক্ষণের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Advertisement
আরও পড়ুন