—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
রাজ্য সরকারের বহুচর্চিত যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ। এই প্রকল্পে ৮৪ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লকভিত্তিক অফলাইন শিবিরে এসে আবেদন জমা দিয়েছেন ৬৫ লক্ষ ৫৭৯ জন। অন্য দিকে, অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ১৯ লক্ষ। রাত ১২টা পর্যন্ত যেহেতু পোর্টাল কার্যকর থাকবে, তাই এই সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের অনুমান।
প্রসঙ্গত, ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রির দিন থেকে রাজ্য জুড়ে শিবির করে যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবক-যুবতীদের টানা পাঁচ বছর মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হবে। তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বাস্তবে নির্ধারিত সময়ে এই টাকা দেওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। কারণ, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহের পর যে কোনও দিন বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হলে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে যাবে, সেই সময় নতুন কোনও প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা চালু করা যায় না। ফলে ভোটের ফল প্রকাশের পরেই যুবসাথী প্রকল্প কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন আধিকারিকদের একাংশ।
নির্বাচনের কারণে যদি এই প্রকল্প চালু করা না-ও যায়, তবুও তৃণমূল প্রচারের ক্ষেত্রে যুবসাথীকে বড় হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। চলতি বছরের বিধানসভার অন্তর্বর্তিকালীন বাজেটে যুবসাথী প্রকল্প চালুর ঘোষণা করেছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তখন বলা হয়েছিল, ১৫ অগস্ট থেকে প্রকল্পটি চালু হবে। পরবর্তী সময়ে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী ১ এপ্রিল থেকে প্রকল্প চালুর ঘোষণা করেন। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য জুড়ে ব্লকভিত্তিক শিবির ও অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে দ্রুত আবেদন সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়। যুবসমাজের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে, বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে প্রশাসন।