কাজী নজরুল ইসলাম।
ঢেলে সাজা হবে আসানসোলের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, বৃহস্পতিবার এ কথা জানালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এ দিন কলকাতা রওনা হওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, পশ্চিম বর্ধমানে প্রস্তাবিত নতুন মেডিক্যাল কলেজ আসানসোলেই গড়ার সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামানুসারে তার নাম হতে পারে ‘কাজী নজরুল মেডিক্যাল কলেজ’। এই সংক্রান্ত আইএমএ-র আসানসোল শাখার স্মারকলিপি তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেনবলেও জানান।
আসানসোল জেলা হাসপাতালে পরিকাঠামো ও চিকিৎসকের অভাবে আটকে থাকা ট্রমা সেন্টারও দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, পুর-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে শূন্যপদ পূরণে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবে তদারকি করছেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর ‘স্বচ্ছতাই সেবা’ মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য অপসারণের কাজ জোরকদমে চলছে বলে জানান মন্ত্রী। মন্ত্রীর দাবি, বেসরকারি হাসপাতালকেও পরিচ্ছন্নতায় টেক্কা দেবে আসানসোল জেলা হাসপাতাল। সাধারণ মানুষকে উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
পাশাপাশি, জুলাইয়ের শেষেই আয়ুষ্মান ভারত কার্ড হাতে চলে আসবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। দফতর সূত্রের খবর, রাজ্য জুড়ে এই কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ ও ফর্ম পূরণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। জুলাইয়ের শেষেই সাধারণ উপভোক্তারা কার্ড হাতে পেয়ে যাবেন। মন্ত্রী বলেন, ‘‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘অন্ত্যোদয়’ ভাবনা এবং প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথ অনুসরণ করে সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে নিখরচায় উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।’’
পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সীমাবদ্ধতার সমালোচনা করে মন্ত্রীর দাবি, আগে কর্কট বা যকৃৎ প্রতিস্থাপনের মতো রোগের চিকিৎসায় মানুষকে ভিটে-মাটি বিক্রি করে ভিন্ রাজ্যে যেতে হত। এ বার থেকে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের মাধ্যমে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।