Petrol-Diesel

পাত্রে পেট্রল, ডিজেলে আর নিষেধাজ্ঞা নয়

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে বড় বড় ফ্লেক্স টাঙিয়ে ক্রেতাদের কাছে অনুরোধ জানানো হয়, যে কোনও পাত্রে যেন পেট্রল বা ডিজেল না চাওয়া হয়। এর জেরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন জেলার চাষিরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৩:১৪

— প্রতীকী চিত্র।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী পাম্প থেকে ব্যারেল, কন্টেনার, জার, বোতল এবং জ্যারিকেনে পেট্রল ও ডিজেল বিক্রিতে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল, রবিবার থেকে তা প্রত্যাহার করা হল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন চাষিরা। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিজেপির কিসান মোর্চা।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে বড় বড় ফ্লেক্স টাঙিয়ে ক্রেতাদের কাছে অনুরোধ জানানো হয়, যে কোনও পাত্রে যেন পেট্রল বা ডিজেল না চাওয়া হয়। এর জেরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন জেলার চাষিরা। সামনেই আমন চাষের মরসুম। বীজতলা তৈরি এবং মূল জমিতে ধানের চারা রোপণের জন্য সেচের প্রয়োজন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডিজেলচালিত পাম্পের উপরে নির্ভর করতে হয় চাষিদের। নানা পাত্রে ডিজেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাষের কাজ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় তাঁদের।

কালনা ২ ব্লকের চাষি ফিরোজ শেখ বলেন, “এখন চাষের মরসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয় না। মাঠে সেচ দিতে ডিজেলচালিত পাম্পের উপরে নির্ভর করতে হয়। বড় পাত্রে ডিজ়েল না পাওয়া গেলে পাম্প কী ভাবে চলবে, চিন্তায় ছিলাম। রবিবার থেকে আবার আগের মতো ডিজেল পাওয়া যাবে জেনে আমাদের মতো বহু চাষি স্বস্তি পেয়েছেন।” সরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং বড় বড় আবাসনেও সমস্যা তৈরি হয়েছিল। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছিল না।

এ দিন কালনার মানসী লজে বিজেপি রাজ্য কিসান মোর্চার পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি রাজীব ভৌমিক জানান, মুখ্যমন্ত্রী এবং খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পাম্প থেকে বিভিন্ন পাত্রে পেট্রল ও ডিজেল বিক্রিতে আর কোনও বাধা নেই। সেই নির্দেশ ভারত পেট্রোলিয়াম, ইন্ডিয়ান অয়েল এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো তেল বিপণন সংস্থাগুলিকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র উপকৃত হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।”

সরকার কেন প্রথমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, জানতে চাইলে রাজীব জানান, সরকার নির্দিষ্ট কিছু রিটেল লাইসেন্স দিয়েছিল। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জায়গায় পেট্রল ও ডিজেল বিক্রি করছিল। লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন, অবৈধ ব্যবসাও বাড়ছিল। সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতেই সরকার ওই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে কালনার মাঝি পরেশ কর্মকার বলেন, “মোটরচালিত নৌকা চলাচল করতেও লাগে জ্বালানি তেল। আগের মতো তা মিলবে শুনেনিশ্চিন্ত হলাম।”

আরও পড়ুন