বর্ধমান পৌরসভা।
ভোট ঘোষণার আগে থেকেই অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন নিয়ে টালবাহানা চলছে বর্ধমান পুরসভায়। কখনও সবাই পেনশন পাচ্ছেন না, কখনও পেনশন মিলছে মাসের শেষ সপ্তাহে। এপ্রিলের পেনশন এখনও পাননি অবসরপ্রাপ্তেরা। নতুন সরকার আসার পরে ও মাসের পেনশনও ঠিক সময়ে মিলবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের। এ ছাড়া পুরসভার নিজস্ব তহবিল তলানিতে। আয় বা সঞ্চয়ের পথও কমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু অবসরপ্রাপ্তদের নয়, অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়া নিয়েও জুন মাসে সঙ্কট হতে পারে বলে পুরসভার অর্থ দফতরের আশঙ্কা। বিধায়ক (বর্ধমান দক্ষিণ) মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, “আমি এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল ছিলাম না। প্রয়োজনে পুরসভার সঙ্গে কথা বলে সমস্যা হচ্ছে জেনে সমাধানের চেষ্টা করব।”
পুরসভা সূত্রে খবর, কয়েক দিন আগে অবসরপ্রাপ্তদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন পুরপ্রধান পরেশ সরকার। সেখানে তিনি জানান, পুরসভার তহবিল তলানিতে। আয় কমে গিয়েছে, সঞ্চয় হচ্ছে না। সেই কারণে এপ্রিলের পেনশন দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি ‘নিরুপায়’। মে মাসের টাকাও কবে মিলবে, সদুত্তর দিতে পারেনি পুরসভা।
বর্ধমান পুরসভায় ৮৯০ জনের মতো অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের পেনশন খাতে খরচ হয় দেড় কোটি টাকার উপরে। যার মধ্যে পুরসভা দেয় ৬০% অর্থাৎ ৯০ লক্ষ টাকা আর রাজ্য দেয় ৪০% অর্থাৎ ৬০ লক্ষ টাকা। পুরসভার অর্থ দফতরের দাবি, রাজ্যের ভাগ আসতে অনেক মাসেই দেরি হয়, তখন নিজস্ব তহবিল বা সঞ্চয়ের টাকা থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরসভা অবসরকালীন পেনশন দেয়। হাজার তিনেক অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন দিতে পুরসভার তহবিল থেকে সওয়া এক কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু ভোটের আগে থেকে পুরসভার আয়ে ধাক্কা লাগায় তহবিলে টান পড়েছে।
পেনশনের টাকা হাতে না পেয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগা অবসরপ্রাপ্তদের দাবি, “মাসে কয়েক হাজার টাকার ওষুধ লাগে। পেনশন অনিয়মিত হলে কী করব বুঝতে পারছি না।’’ প্রণবকুমার ভট্টাচার্য নামে একজন বলেন, “সঞ্চয়ের টাকা ভেঙে সংসার চালাচ্ছি, ওষুধ কিনছি। কয়েক মাস ধরে খুব সমস্যা হচ্ছে।” অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন ‘অল বেঙ্গল ওয়ার্কসম্যান ফেডারেশন পেনশনার্স সমিতি’র রাজ্যের কার্যকরী কমিটির সদস্য জীবন ঘোষ বলেন, “কয়েক মাস ধরেই পেনশন অনিয়মিত। মাঝে একবার সবাইকে এক সঙ্গে পেনশন দিচ্ছিল না। তখন আমাদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ বেধে যাচ্ছিল। পুরসভায় জানানোয় তা বন্ধ হয়। এখন পেনশনই বন্ধ।’’
পুরপ্রধান পরেশ সরকার বলেন, “বয়স্কদের ভাল রাখা আমাদের দায়িত্ব। চেষ্টা করছি। সরকারের অংশের টাকা পাওয়া গেলেসবার মঙ্গল।”