চলছে ‘মা ক্যান্টিন’। দুর্গাপুরে মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে। নিজস্ব চিত্র।
তৃণমূল সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম ‘মা ক্যান্টিন’। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালেও এই ক্যান্টিন চালু রয়েছে। পুরসভা পরিচালিত এই ক্যান্টিন প্রতিদিন শ’তিনেক মানুষের ভরসা। কিন্তু বিধানসভা ভোটে রাজ্যে পালাবদলের পরে এই ক্যান্টিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কায় হাসপাতালে আসা রোগীর পরিজনদের কেউ কেউ। তবে আপাতত ক্যান্টিন বন্ধের সম্ভাবনা নেই বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ক্যান্টিন চালু হয়। পাঁচ টাকার কুপন কেটে সোম থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে তিনশো জন দুপুরের খাবার পান। শনি ও রবিবার চাহিদা কিছুটা কম থাকে। ভাত, ডাল, তরকারি ও ডিম দেওয়া হয়। ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব আছে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। পার্শ্ববর্তী ইএসআই হাসপাতালের রোগীর পরিজনেরাও অনেকে এখানে আসেন। ৬ মার্চ হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে বসে খাওয়ার জন্য ছাউনি করে দেওয়া হয়।
নতুন সরকারের আমলে ক্যান্টিন চালু থাকবে কি? পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষের পরে, গত তিন বছর ধরে পুরসভা চলছে প্রশাসকমণ্ডলী দিয়ে। বুধবার দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিমের বিজেপির দুই জয়ী প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় ও লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের নেতৃত্বে পুরসভার সামনে বিক্ষোভ দেখান কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, প্রশাসকমণ্ডলীর দুই সদস্যকে পুরসভায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনে শহরবাসীর রায় নিয়ে যে দল আসবে, তারা পুরসভা চালাবে।
এক রোগীর পরিজন বলেন, “পুরসভায় টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে মনে হচ্ছে। তেমন হলে মা ক্যান্টিন চালু থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। ক্যান্টিন না থাকলে অনেকে অসুবিধায় পড়বেন।”
পুর-প্রশাসক অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় অবশ্য জানান, পুরসভা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না যাওয়া পর্যন্ত ক্যান্টিন চলবে। তিনি বলেন, “ভোটের ফল প্রকাশের পরে আমরা পুরসভায় যাইনি। বুধবার আমাদের পুরসভায় ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে বিক্ষোভ হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পরেই বোঝা যাবে, মা ক্যান্টিন নিয়ে পুরসভা কী সিদ্ধান্ত নেবে।” চন্দ্রশেখর বলেন, “খবর আছে, ওই ক্যান্টিন চালু রেখে পুরসভার বাইরের কেউ এক জন স্বার্থপূরণ করছেন। ক্যান্টিন স্বচ্ছ ভাবে যাতে চলে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”