—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
খরিফ মরসুমের ধান কার্যত শেষ হতে চলল। কিন্তু সহায়ক মূল্যের কাছে কাছে পৌঁছতেই পারল না খোলা বাজারের ধানের দাম। ফলে, চলতি মরসুমে খাদ্য দফতরকে ধান কেনা নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি। কিন্তু লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে চাষিদের। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে চালকলগুলির কাছ থেকে ধানের ‘লেভি’ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। শিবির করে চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে শুরু করে খাদ্য দফতর। প্রতি বছর দেখা যায়, শিবির করে ধান কেনা শুরু হতেই খোলা বাজারে ধানের দাম বাড়তে থাকে। কয়েক দিনের মধ্যে সহায়ক মূল্য ছাড়িয়ে যায় খোলা বাজারে ধানের দাম। তখন ধান পাওয়ার জন্য নানা নিয়ম শিথিল করে দেয় খাদ্য দফতর। কিন্তু এ বার নিয়ম শিথিল করা তো দূর, চাষিদের কাছ থেকে ধান নেওয়া আটকাতে অলিখিত ভাবে খাদ্য দফতর নানা পদ্ধতি অবলম্বন করছে বলে ক্ষোভ রয়েছে। তার পরেও গত মরসুমের চেয়ে রাজ্যে ৫.২০ লক্ষ বেশি চাষি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করেছে। লক্ষ্যমাত্রার ৭৭% ধান কেনা হয়েও গিয়েছে। খরিফের ধানে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না বলে বোরোয় ২৫% ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা রাখতে হয়। এ বার খরিফ মরসুমেই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি ধান কেনা হয়ে যাবে, দাবি কর্তাদের। সরকার মূলত লাল স্বর্ণ ধান কেনে। উৎসাহ ভাতা ২০ টাকা ধরে কুইন্টাল প্রতি সহায়ক মূল্যে ধানের দাম ২৩৮৯ টাকা। সেখানে খোলা বাজারে ধানের দাম ২০০০ টাকা। জেলার চাষি শাহিদুল মণ্ডল, মিলন রায়দের কথায়, “কয়েক দিন আগেও ধানের দামের পার্থক্য ৪৫০-৫০০ টাকা ছিল। সেই পার্থক্য কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু ধান বিক্রি করলে লোকসানই হবে।” রাজ্যের ধান্য ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ মল্লিকের দাবি, “সরকার উৎপাদিত লাল স্বর্ণের ৩৫% চাষিদের কাছ থেকে কেনে। বাকি ধান আমরা কিনি। এ রাজ্যে তো বটেই লাল স্বর্ণ বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়ের চালকলে পাঠাতাম। তারা এখন নিতে চাইছেন না।’’ চাল-রফতানিকারক ঘনশ্যাম আগরওয়ালের দাবি, “খিদিরপুর বন্দরে মালবাহী জাহাজ কমেছে। এখন চাল পাঠাতে গেলে দেশের অন্য প্রান্তের বন্দর ব্যবহার করতে হচ্ছে। ব্যয়বহুল হওয়ায় রফতানিকারীরা উৎসাহ হারাচ্ছেন।”