Changes in Regional TMC

পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে নেতা বদলের ভাবনা

তৃণমূল সূত্রের দাবি, সব ঠিক থাকলে, নতুন বছরের গোড়ায় রাজ্য জুড়ে ব্লক কমিটি গঠন ও অঞ্চল সভাপতি পরিবর্তন করা হবে।

সৌমেন দত্ত
শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

শহরাঞ্চলে ‘ঝাড়পোঁছ’ করে ফেলেছে তৃণমূল। এ বার গ্রামীণ এলাকাতেও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কর্মীদের সামনে আনার ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ স্তর ও পরামর্শদাতা সংস্থার তরফে প্রতিটি জেলার সভাপতিকে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, অঞ্চল সভাপতির নিজের বুথে জেতা বাধ্যতামূলক। আবার, তিনি নিজে বা তাঁর নিকাটাত্মীয় কেউ দল বা প্রশাসনের অন্য কোনও পদে যাতে না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। সে বিষয়ে নতুন অঞ্চল সভাপতিদের কাছে দল ‘মুচলেকা’ নিতে পারে বলেও সূত্রের দাবি।

তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার দাবি, “গোটা রাজ্যে আমাদের গ্রামের ভোট অটুট রয়েছে। কিন্তু দেখা যায়, অঞ্চল সভাপতির স্ত্রী বা অন্য কোনও আত্মীয় দলের প্রধান হয়ে রয়েছেন। স্ত্রীর হয়ে সেই অঞ্চল সভাপতিই পঞ্চায়েত পরিচালনা করছেন। এর প্রভাব গ্রামাঞ্চলে পড়ছে।’’ নেতার সংযোজন: ‘‘ভোটকুশলী সংস্থার কাছে এ নিয়ে অনেকে অনুযোগ করছেন। সে কারণেই বিধানসভা ভোটের আগে অঞ্চল সভাপতি রদবদলে এ কথা মাথায় রাখা হচ্ছে।”

তৃণমূল সূত্রের দাবি, সব ঠিক থাকলে, নতুন বছরের গোড়ায় রাজ্য জুড়ে ব্লক কমিটি গঠন ও অঞ্চল সভাপতি পরিবর্তন করা হবে। রদবদলের ক্ষেত্রে দল ও প্রশাসন পরিচালনায় দক্ষতাই বিচার্য। তবে সম্প্রতি নানা পুরসভায় মাথা বদল এবং বিধানসভা ধরে কোঅর্ডিনেটর নিযুক্ত করার পরে, গ্রামের নেতৃত্বে পরিবর্তন করতে গিয়ে ভোটের আগে সংগঠনে যাতে বড়সড় প্রভাব না পড়ে, সে দিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে।

লোকসভা ভোটের আগে নানা জায়গায় অঞ্চল সভাপতিদের ‘ঔদ্ধত্য’ নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। একাধিক পঞ্চায়েতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, কাজে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তখন তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। দলের এক রাজ্য নেতার কথায়, ‘‘লোকসভা ভোটের ফল বিচার করে, পুরসভার মতো পঞ্চায়েত প্রধানদেরও বদলের কথা উঠেছিল দলে। কিন্তু পঞ্চায়েত-বিধিতে প্রধান পরিবর্তন আটকে যাবে। তাই সাংগঠনিক ভাবে অঞ্চল সভাপতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটে এই সভাপতিদের অনেকটাই প্রভাব থাকে।’’

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ, ২০২১ সালের বিধানসভা বা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নিজের বুথে পিছিয়ে, এমন কাউকে অঞ্চল সভাপতির পদে রাখা যাবে না। যিনি দায়িত্বে আসবেন, তাঁর স্ত্রী বা অন্য কোনও আত্মীয় দলের বা প্রশাসনের অন্য কোনও পদে নেই, সে কথা লিখিত ভাবে জানাতে হবে। দলের কাজে জনমানসে ক্ষোভ থাকলে, তা দূর করতেই ভোটের আগে এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতারা।

আরও পড়ুন