ইরানের হামলা দুবাইয়ে। — ফাইল চিত্র।
তখনও যুদ্ধের হাওয়া ছিল না। সে সময়ই সপরিবারে কাজ়াখস্তান এবং উজ়বেকিস্তানে বেড়াতে যান পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মল্লিক। কিন্তু শনিবার থেকে ছবি পাল্টাতেই চিন্তিত তিনি। হামলা, পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়ায় আটকে পড়েছেন তাঁরা। কী ভাবে বাড়ি ফিরবেন জানেন না। সাহায্যের আর্জি করলেন ভারত সরকারের কাছে। শুধু একা বিশ্বজিৎ নন, কুয়েতে কাজে গিয়ে আটকে পড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের আর এক বাসিন্দা মামন শেখও।
সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নিজেদের অসহায়তার কথা তুলে ধরেন বিশ্বজিৎ। তিনি জানান, তাঁরা সকলে আতঙ্কে ভুগছেন। একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুম ভাঙছে। কী ভাবে তাঁরা দেশে ফিরবেন, জানেন না। পশ্চিম এশিয়া হয়ে বিমানে ভারতে ফেরার কথা তাঁদের। সেখানকার বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় চিন্তিত সকলে। তাঁদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না-হলে তাঁদের ইউরোপ, রাশিয়া, চিন, সিঙ্গাপুর হয়ে ভারতে ফিরতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। এই পরিস্থিতি ভারত সরকারের সাহায্য চাইছেন বিশ্বজিতেরা।
অন্য দিকে, পূর্ব বর্ধমানের কালনার নিভুজি কল বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মামুম। চার বছর আগে কর্মসূত্রে কুয়েত চলে যান তিনি। সেখানে রাঁধুনির কাজ করেন। সেখান থেকে গ্রামের বাড়িতে টাকাও পাঠান। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কার্যত তিনি কুয়েতেই ঘরে বন্দি। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় দেশে ফেরার চিন্তাও করতে পারছেন না। মামুনের মতো তাঁর কাকার ছেলে সোহেল শেখ কাজ করেন দুবাই সংলগ্ন শারজা শহরে। তাঁর অবস্থাও মামুনের মতোই। দুই ছেলে এ ভাবে কুয়েত, দুবাইয়ে আটকে পড়ায় উদ্বিগ্ন পরিবার। ভিডিয়ো কলে দুই ভাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে বার বার কথা বলছে তারা। কিন্তু আশ্বস্ত হতে পারছে না। তাদের আর্জি ভারত সরকার হস্তক্ষেপ করুক এ বিষয়ে।