Samik Bhattacharya

মমতাকে ‘চোর-চোর’ স্লোগান: শমীক বললেন, তৃণমূলেরই কৃতকর্মের ফল! দাবি করলেন বিক্ষোভে বিজেপির হাত নেই

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া, ‘‘বিজেপিরও তিন জন কর্মী মারা গিয়েছেন। আমরা চাইলেই যে রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ হয়ে যাবে, এমনটা নয়। মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ১৪:১৬
Samik

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ‘চোর-চোর’ স্লোগান, তাঁকে উদ্দেশ্য করে কুমন্তব্য, এগুলো কোনওটাই বিজেপির কাজ নয়, এগুলো বিজেপির সংস্কৃতি নয়। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্ট চত্বরে ঘটনার প্রেক্ষিতে এমনই মত এবং দাবি বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের। পাশাপাশিই, তাঁর দাবি, এই বিক্ষোভ তৃণমূলের কৃতকর্মের ফল। তবে এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে পশ্চিমবঙ্গকে বার করে নিয়ে যেতে চান তাঁরা।

Advertisement

বৃহস্পতিবারই ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি নিজে আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করেছিলেন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাস থেকে বার হওয়ার সময় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় রাজ্যের তিন বারের মুখ্যমন্ত্রীকে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মমতা আইনজীবীদের একাংশের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলেন, “ওরা আমাকে মেরেছে।” পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছোয় যে পুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে মমতাকে বার করে নিয়ে যান। যা নিয়ে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘হাই কোর্টে আমাদের নিরাপত্তার হাল যদি এই হয়, তবে সারা রাজ্যে কী হচ্ছে!’’

তবে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দাবি করেছেন, এই বিক্ষোভে বিজেপি কোনও ভাবে জড়িত নয়। তাঁর কথায়, ‘‘এটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। একজন মহিলা। তাঁকে দেখলে মানুষ রাস্তায় ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেবে, এই কাজ বিজেপি করে না। এই পরিস্থিতিও বিজেপি তৈরি করেনি। এই পরিস্থিতির জন্য যদি কেউ দায়ী হয়ে থাকে, সেটা তৃণমূলই।’’ রাজ্য বিজেপির সভাপতির কটাক্ষ, ‘‘কৃতকর্মের ফল তো পিছু ছাড়ে না। তবে এ ধরনের ঘটনা যাতে না হয়... আমরা সুস্থ, স্বাভাবিক সমাজ চাই। যে কাজ তৃণমূল করেছে, তারই প্রতিক্রিয়া এগুলো।’’

মমতাকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শমীকের এ-ও দাবি, যাঁরা বিক্ষোভ করছেন তাঁরা তৃণমূলের। যাঁদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, তাঁরাও তৃণমূলের। এখানে কোথাও বিজেপি নেই। তাঁর কথায়, ‘‘এটা ‘হ্যাভস’ আর ‘হ্যাভস নট’-দের লড়াই। তৃণমূলের সময় যারা পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যারা পায়নি, তারা এখন মুখ খুলছে।’’

আইনজীবী মমতা হাই কোর্টে জানান, ভোট-পরবর্তী হিংসায় তাঁর দলের প্রচুর কর্মী আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁদের প্রায় ১৬০টি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। রাজ্যে প্রায় ২ হাজার ঘটনা ঘটে গিয়েছে। প্রাক্তন পুলিশমন্ত্রী পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি নিজের এলাকার উদাহরণ দিয়ে জানিয়েছেন, নিজে পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করতে পারছেন না। অনলাইনে অভিযোগ করতে হচ্ছে। ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই সব ঘটনায় পুলিশ দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যদিও আদালতে পুলিশ-প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, মামলাকারীদের অভিযোগ স্পষ্ট নয়। তাঁরা ২ হাজার ঘটনার কথা বলছেন। কিন্তু সেগুলো নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য নেই।

মমতার ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে শমীকের প্রতিক্রিয়া, ‘‘বিজেপিরও তিন জন কর্মী মারা গিয়েছেন। আমরা চাইলেই যে রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ হয়ে যাবে, এমনটা নয়। মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। কোথাও কোন বিচ্যুতি থাকলে সাংবাদিকদের জানাতে হবে। যে কোনও মূল্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। না হলে ধ্বংস হবে পশ্চিমবঙ্গ।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলেই জীবিত আছেন। কিন্তু প্রয়োজনে আমাদের কর্মীরা জবাব দিতে পারেন। নইলে স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষে শেষ হয়ে যেত। আসলে আমরা এই রাজনীতির শেষ দেখতে চাই।’’

Advertisement
আরও পড়ুন