নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কানাডার হাই কমিশনার ক্রিস কুটার। সোমবার। — নিজস্ব চিত্র।
রাজ্যে সরকার গড়েই শিল্পে বিনিয়োগ টানার কাজ শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। এই আবহে সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করে ইস্পাত-বন্দর-পরিকাঠামো-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখালেন কানাডা সরকারের প্রতিনিধি তথা এ দেশে কানাডার হাই কমিশনার ক্রিস কুটার। বৈঠকে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল-ও। রাজ্যও তাদের ইতিবাচক ভাবনাচিন্তার কথা কানাডাকে জানিয়েছে।
আগামী ডিসেম্বরেই ভারত এবং কানাডার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষর হওয়ার কথা। তাতে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা আরও বাড়বে। চলতি বাজেটে পরিকাঠামো থেকে কৃষি, বিমানবন্দর থেকে গভীর সমুদ্র বন্দর— সব ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ-সহায়ক পরিবেশ তৈরির বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই প্রশ্নে কেন্দ্রের নীতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকারি স্তরে। এই অবস্থায় অন্যান্য একাধিক ক্ষেত্রের সঙ্গে প্রাথমিক ভাবে তিনটি বড় ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সে দেশ। বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের কাজে কানাডার বিনিয়োগ রয়েছে। এ রাজ্যে কলকাতার বিকল্প একটি বিমানবন্দরের জন্য কল্যাণীকে বেছে নিয়েছে রাজ্য। স্বাভাবিক ভাবেই সেই পরিকাঠামোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে কানাডার। প্রসঙ্গত, ওই বিমানবন্দর ছাড়াও কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পের আওতায় জেলাস্তরে আরও কয়েকটি বিমানবন্দরের পরিকাঠামো গড়তে চায় নবান্ন। পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্র বন্দরের ঘোষণা হয়েছে রাজ্য বাজেটে। সরকারি নীতি অনুযায়ী, পিপিপি বা বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে যৌথ ভাবে সেই কাজের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাতেও বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে কানাডার। কৃষি ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মাটির গুণমান বাড়ানোর প্রশ্নে প্রযুক্তি দিয়েও সহায়তা করতে চায় সে দেশ। চা শিল্পের উন্নয়নের প্রশ্নেও সহযোগিতার আগ্রহ রয়েছে কানাডার। পাশাপাশি, খনি, তথ্যপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, পর্যটন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও তাদের আগ্রহ রয়েছে।
কানাডা সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যও। নতুন সরকার তাদের অগ্রাধিকারগুলি জানিয়েছে কানাডার হাই কমিশনারকে। প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, নতুন সরকার সবে এক মাস পার করেছে। ফলে বিনিয়োগ প্রশ্নে যে প্রস্তাব এবং পরিকল্পনাগুলি তারা নিয়েছে, তাকে সুনির্দিষ্ট রূপ দিতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এ রাজ্যের মানবসম্পদ, মেধা, কাঁচামাল, প্রাকৃতিক সম্পদ-বৈচিত্র ইত্যাদির অভাব নেই। ফলে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে সেই সব বিষয়গুলি এক সূত্রে বাঁধা পড়লে বিনিয়োগ-সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, শিল্পের প্রয়োজনে জমিনীতিতেও একটা বদল আনার বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। ফিরিয়ে আনার কথা শিল্পের উৎসাহ নীতিও। সব মিলিয়ে তাই এ দিনের বৈঠককে ইতিবাচক বলে মনে করছে দু’পক্ষই।