(বাঁ দিকে) শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পাল (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
দীর্ঘ আট বছর ধরে আটকে রয়েছে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর সোমবার থেকেই কাজ শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই দিনই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আসানসোল দক্ষিণের দু’বারের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। দায়িত্বভার গ্রহণের পরেই হাওড়ার পুর নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে শুভেন্দু-অগ্নিমিত্রার। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালে শেষ বার হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হয়েছিল। ২০১৮ সালে ওই পুরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ভোট হয়নি। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ, আট বছরের ব্যবধানে দু’বার পুর নির্বাচন হওয়ার নির্ঘণ্ট ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন করার বদলে প্রশাসক চাপিয়ে হাওড়া পুরসভার পুর পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত সরকার।
২০১৫ সালে আচমকাই বালি পুরসভার বিলুপ্তি ঘটিয়ে তাকে হাওড়ার সঙ্গে সংযুক্ত করে উপনির্বাচন হয়। সেই সময় ১৬টি ওয়ার্ড তৈরি করে নির্বাচনে সব ক’টি আসন জিতে নেয় তৃণমূল। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় একটি বিল পাশ করেছিল তৎকালীন সরকার। কিন্তু পরে আবার হাওড়া থেকে বালিকে বাদ দিয়ে পৃথক পুরসভার মর্যাদা দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রেও একটি বিল পাশ করে তা অনুমোদনের জন্য রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হয়। তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় হাওড়া পুরসভার আর্থিক বরাদ্দ ও খরচ সংক্রান্ত বিষয় জানতে চাইলে, তার কোনও সদুত্তর রাজ্য সরকার দিতে পারেনি বলেই অভিযোগ। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত বিষয়ে লোকভবন ও নবান্নের মতপার্থক্য মিটে গিয়েছিল বলেই জানা গিয়েছে। কিন্তু হাওড়ার পুরসভা ভোট কবে হবে, সেই সংক্রান্ত বিষয় তৃণমূল সরকার কোনও স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি বলেই অভিযোগ হাওড়াবাসীদের একাংশের। যেহেতু ২০১৮ সাল থেকে হাওড়া নির্বাচন হয়নি, তাই রাজ্য সরকার পুরসভা পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ করেছিল। কখনও সেই প্রশাসক পদে ছিলেন মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়, কখনও সেই ভূমিকায় ছিলেন সুজয় চক্রবর্তী। কিন্তু তাতেও পুর পরিষেবার হাল ফেরেনি।
দীর্ঘ আট বছর হাওড়ায় পুর ভোট না হওয়াতে সেখানকার পুর পরিষেবা যে একেবারে তলানিতে ঠেকেছে, তা মেনে নিয়েছেন শিবপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মহেন্দ্র শর্মা। তিনি বলেন, ‘‘পুর পরিষেবা এমন একটি বিষয় যা মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় বিষয়। দীর্ঘদিন ভোট না হওয়াতে, সব কিছুই থমকে গিয়েছে। প্রশাসক নিয়োগ করে পুরসভা পরিচালনা তো কোনও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হতে পারে না। তাই নতুন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, তারা যেন নির্বাচন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে।’’ মধ্য হাওড়ার বাসিন্দা তথা হাওড়া বিজেপির সহ-সভাপতি অজয় মান্না বলেন, ‘‘পুরসভার পরিষেবা কী, তা আমরা ভুলে গিয়েছি। তৃণমূল জামানায় যে ভাবে হাওড়াবাসীকে পুর পরিষেবা পেতে ভোগান্তি পোয়াতে হয়েছে, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। নিকাশি থেকে জল, আবর্জনা থেকে আলো— সব ক্ষেত্রেই আমাদের হাল বেহাল হয়েছে। আশা করব রাজ্য সরকার দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে হাওড়াবাসীকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।’’
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘হাওড়া পুরসভায় নির্বাচন হয়নি— এই বিষয়টি কারও অজানা নয়। তাই দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এ বিষয়ে আমার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে। তিনিও চান হাওড়া পুরসভা এলাকার মানুষ পুর পরিষেবা পান। দ্রুতই ভোট হোক হাওড়া পুরসভা এলাকায়। আপাতত সব কিছুই প্রাথমিক পর্যায়ে হয়েছে, হাওড়ার ভোট প্রক্রিয়া কী ভাবে ত্বরান্বিত করা যায় সে বিষয়ে আমাদের সরকার পদক্ষেপ করবে।’’