TMC MLA Signature Controversy

ববি হাকিমের বাড়িতে সিআইডি! বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ

বিধানসভায় জাল সইয়ের ঘটনায় তদন্তের সূত্রে বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডি ফিরহাদের চেতলার বাড়িতে গিয়েছে। এ ছাড়া, এই ঘটনায় তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ২০:৩৫
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। —ফাইল চিত্র।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে গেল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র প্রতিনিধিদল। বিধানসভায় জাল সইয়ের ঘটনার তদন্তের সূত্রে বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডি ফিরহাদের চেতলার বাড়িতে গিয়েছে বলে খবর। সই নিয়ে মেয়রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ছাড়া, এই ঘটনায় তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা বৃহস্পতিবার সংগ্রহ করা হয়েছে আদালতে। তাঁরা হলেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায় এবং মহেষতলার বিধায়ক শুভাশিস দাস।

Advertisement

তৃণমূল বিধায়কদের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সিআইডি। কলকাতার নগরদায়রা আদালত তাদের আবেদন মঞ্জুর করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তিন বিধায়ক সশরীরে হাজিরা দেন এবং হাতের লেখার নমুনা দেন।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করতে চেয়ে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে বিধানসভার স্পিকারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠিতেই কিছু ‘অসঙ্গতি’ পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। সেই তদন্তভার রাজ্য সরকার তুলে দিয়েছে সিআইডি-র হাতে। তৃণমূল বিধায়ক হিসাবে ওই চিঠিতে ফিরহাদেরও সই ছিল। সই কখন কী ভাবে করা হয়েছে, সে বিষয়ে ফিরহাদকে প্রশ্ন করতে পারেন গোয়েন্দারা। এর আগে তৃণমূলের আরও কয়েক জন বিধায়কের বাড়িতে হানা দিয়েছে সিআইডি। চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে সিআইডি-র দল গিয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়েছে এবং ভিডিয়োগ্রাফিও করা হয়েছে।

বিধানসভার সই-কাণ্ডে তদন্তের সূত্রে সিআইডি যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে পরিষদীয় দলের চিঠিতে তাঁর সই ছিল। ওই ঘটনায় সিআইডি অভিষেককে ভবানী ভবনে তলবও করেছে। গ্রেফতার করা হতে পারে, এই আশঙ্কা প্রকাশ করে অভিষেক রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। কলকাতা হাই কোর্টে সেই মামলার শুনানি রয়েছে শুক্রবার।

বিধানসভায় তৃণমূলের তরফে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতে বিরোধী দলনেতা হিসাবে শোভনদেব, ডেপুটি লিডার হিসাবে অসীমা পাত্র, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চিফ হুইপ হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। চিঠিতে মোট ৭০ জন বিধায়কের নাম ছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে তার মধ্যে অন্তত ১৪ জনের নাম লেখা ছিল ব্লক লেটারে। অভিযোগ, তাঁদের কোনও সই পাওয়া যায়নি। অনেকের স্বাক্ষরে আবার ছিল অসঙ্গতি। গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা সই সংক্রান্ত অভিযোগ বিধানসভার স্পিকারকে জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার তরফে পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুভেন্দুর এই ঘোষণার পর দুই বিধায়ককেই বহিষ্কার করে তৃণমূল।

বুধবার সেই বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব নিয়ে তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক বিধানসভায় স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। ফলে তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিদ্রোহী এই বিধায়কেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভানেত্রী হিসাবে মেনে নিলেও শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে মানতে চাননি। তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই সই সংক্রান্ত তদন্তে সক্রিয় সিআইডি।

বুধবার সেই বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব নিয়ে তৃণমূলের ৫৯ জন বিধায়ক বিধানসভায় স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। স্পিকার সেই চিঠি গ্রহণও করেন। ফলে তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিদ্রোহী এই বিধায়কেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভানেত্রী হিসাবে মেনে নিয়েছেন এবং পরামর্শদাতা হিসাবে থাকতে অনুরোধ করেছেন। তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই সই সংক্রান্ত তদন্তে সক্রিয় সিআইডি।

Advertisement
আরও পড়ুন