TMC

সই-কাণ্ডে শোভনদেবের পাল্টা তিরে ঋতব্রতেরা

রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতির প্রক্রিয়া নিয়ে নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়কদের সই জালের অভিযোগ উঠেছিল দলের অন্দর থেকেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৬:০৬
(বাঁ দিকে) বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের প্রস্তাবে সই জালের যে অভিযোগ, তাকে সামনে রেখে বিষয়টি এ বার ‘বিদ্রোহী’দের দিকেই ঘুরিয়ে দিলেন দলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ভবানীপুরের বাড়িতে গিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বিরোধী নেতা শোভনদেবকে শনিবার এক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সই-কাণ্ডে তদন্তকারী সিআইডি আধিকারিকেরা। পরে শোভনদেব বলেছেন, “যাঁরা বৈঠকে সই করে তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছেন, স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেছেন, আমার সন্দেহ, তাঁরাই এই কাজ (সই জাল) করেছেন।” তবে এই বক্তব্যে আমল দেননি সই-জাল নিয়ে অভিযোগ করা বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতির প্রক্রিয়া নিয়ে নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়কদের সই জালের অভিযোগ উঠেছিল দলের অন্দর থেকেই। তারই তদন্তে এ দিন শোভনদেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি-র ছ’জনের দল। তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বৈঠকে যে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল, তদন্ত শুরুর পর থেকে সেই নিয়ে খোঁজ করছিল সিআইডি। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়ার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেবের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবটি নিয়ে যান গোয়েন্দারা। তদন্তাকারীরা চলে যাওয়ার পরে শোভনদেব বলেছেন, “আমরা কাউকে অবিশ্বাস করিনি। সকলকে ডেকেছিলাম। মাত্র এক জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন।” এই প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত অবশ্য বলেছেন, “ভিত্তিহীন বক্তব্যের কোনও জবাব হয় না।”

প্রসঙ্গত, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহা বিধানসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করতে ডাকা বৈঠকে অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, পরিষদীয় দলের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাব বলে দলের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভাকে যা জানিয়েছেন, তা ঠিক নয়। ওই প্রস্তাব-সহ অভিষেকের পাঠানো চিঠিতে যেগুলি বিধায়কদের সই বলে দাবি করা হয়েছে, তা-ও ঠিক নয়। অনেকের সই জাল করা হয়েছে বলেও আশঙ্কা করেছেন দুই অভিযোগকারী বিধায়ক।

সূত্রের খবর, অভিষেক ও তৃণমূলের একাধিক বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের পরে প্রাথমিক ভাবে সিআইডি মনে করছে, সংশ্লিষ্ট অভিযোগের কিছু সত্যতা আছে। শোভনদেব অবশ্য বলেছেন, “আমি কোনও অন্যায় করিনি। তদন্তে ২০০% সহযোগিতা করব।” নিজের সন্দেহ প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাখ্যা, “যাঁরা দল ছেড়ে যাবেন বলে ঠিক করেছিলেন, তাঁরাই এই কাজ করতে পারেন। মনে তা না-থাকলে স্পিকারের বদলে মমতাকে জানাতেন।” এই তদন্তেই তৃণমূলের আইনজীবী নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি। শুক্রবার তাঁকে নোটিসও দেওয়া হয়েছে। কল্যাণের বক্তব্য, এই মামলার আইনজীবী তিনিই। সিআইডি যা করতে চাইছে, তা বেআইনি।

আরও পড়ুন