—প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে অপথ্যালমোলজি এবং রেডিয়োলজি বিভাগে প্রফেসর পদে পদোন্নতির ইন্টারভিউয়ের বিজ্ঞপ্তি সোমবার প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসের সমস্ত বিভাগের মধ্যে শুধু এই দু’টি বিভাগের বিজ্ঞপ্তি জারির মাত্র দু’দিনের মাথায় ইন্টারভিউ নেওয়া হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইন্টারভিউ হবে আগামী ৫ মার্চ।
গত ডিসেম্বরে প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে পদোন্নতির
বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। জানানো হয়েছিল, ওই তিনটি পদে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণের চূড়ান্ত তারিখ ধরা হবে ৩০ অক্টোবর। সেই সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন
তুলেছিল বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন। দাবি উঠেছিল, আগে যখন বছরে দু’বার পদোন্নতি হত, সেই সময়ের মতোই ৩১ ডিসেম্বর ‘কাট-অফ’ তারিখ রাখতে হবে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য
দফতরে স্মারকলিপিও দিয়েছিল কয়েকটি চিকিৎসক সংগঠন। যদিও তা নিয়ে কোনও পদক্ষেপ স্বাস্থ্য ভবনের তরফে করা হয়নি। এরই মধ্যে এ দিন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ৫ মার্চ অপথ্যালমোলজি এবং রেডিয়োলজি বিভাগে প্রফেসর পদের ইন্টারভিউ হবে। অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদে থাকা প্রার্থীদের ওই দিন দুপুর ২টোর মধ্যে সমস্ত নথি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনে পৌঁছতে বলা হয়েছে। এতেই আপত্তি চিকিৎসক মহলের একাংশের।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি, চিকিৎসক কৌশিক চাকী জানান, বিভাগীয়
পদোন্নতির ইন্টারভিউয়ে সাধারণত সমস্ত পদ ও সমস্ত বিষয়ের উপরে ভিত্তি করে একটি রুটিন বানানো হয়। তা দিয়েই নোটিস জারি হয়। তিনি বলেন, ‘‘নোটিস ও ইন্টারভিউয়ের তারিখের মধ্যে অন্তত সাত দিন সময় থাকে। যাতে উত্তরবঙ্গ থেকেও ছুটি নিয়ে ট্রেনের টিকিট কেটে কেউ আসতে পারেন।’’ কৌশিকের আরও দাবি ‘‘এ বার আচমকা দু’দিন সময় ও শুধু দু’টি বিভাগের একটি পদের জন্য নোটিস কাউকে কাউকে বিশেষ সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা বলেই মনে হচ্ছে।’’
অ্যাসোসিয়েশন অব হেল্থ সার্ভিস ডক্টর্সের তরফে চিকিৎসক মানস গুমটা বলেন, ‘‘কাট-অফ ডেট ৩১ ডিসেম্বর করার দাবি আগেই জানিয়েছিলাম। তিন মাস হয়ে গেলেও কিছুই হয়নি। আচমকা এমন আলাদা নির্দেশিকা বেরোনোয় প্রশ্ন তো থাকবেই। এখানে বদলি, পদোন্নতি, নিয়োগ কিছুই স্বচ্ছ নয়।’’ যদিও এ বিষয়ে কোনও স্বাস্থ্যকর্তার প্রতিক্রিয়া মেলেনি।