এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারী মোস্তারি বিবি। নিজস্ব চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালকে সামনে রেখে ভোটের আগে প্রচারে নেমে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের তাবড় নেতা-কর্মীরা। এই আবহে সুপ্রিম কোর্টে প্রথম এসআইআর-হয়রানি সংক্রান্ত মামলা করেছিলেন মোস্তারি বানু নামে মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার যে বধূ, তাঁর কথা স্মরণ করিয়ে দিল সিপিএম। শাসক দল তৃণমূলের প্রচারের পাল্টা ইঙ্গিতে ‘পিটিশন চুরির চেষ্টা’র অভিযোগও তুলেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। পক্ষান্তরে, সিপিএম প্রচার পেতে চাইছে বলে পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূল।
মোস্তারির আইনজীবী তথা দলের নেতা সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে আলিমু্দ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের রাজ্য দফতরে সেলিম বৃহস্পতিবার মোস্তারির মোবাইল-বার্তা শুনিয়েছেন। মোস্তারি বলেছেন, “২০০২-এর ভোটার তালিকায় আমার নাম ছিল, ভোটও দিয়েছিলাম। তবুও অকারণে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল সংখ্যালঘু, পরিযায়ী শ্রমিক-সহ প্রান্তিক মানুষকে হয়রান করছে। এর বিরুদ্ধেই আমার মামলা।” তাঁর আইনজীবী সব্যসাচীর দাবি, “বাংলার মেয়ে মোস্তারি প্রথম এসআইআর সংক্রান্ত মামলাটি করেছিলেন।”
সেলিমের বক্তব্য, “কেরল, তামিলনাড়ুতে এসআইআর নিয়ে বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকে নিন্দা-প্রস্তাব আনা হয়েছিল, সরকার মামলা করেছিল। এখানে সরকার প্রথমে তা করেনি। যখন করেছে, তার আগে আমরা মামলা করেছি। মোস্তারি বানু করেছিলেন। পরে বোধদয় হওয়ায় যাঁরা চাল, কয়লা, সোনা চুরি করেন, তাঁরা এখন পিটিশন চুরির চেষ্টা করছেন! মমতা লড়ছেন, এমন ভুয়ো চিত্র তৈরির চেষ্টা চলছে।” এসআইআর-মামলার পরবর্তী শুনানির দিন সুপ্রিম কোর্টে মোস্তারি যাতে থাকতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন সেলিম। বিজেপি ও মমতাকে এক পঙ্ক্তিতে রেখে সেলিমের সংযোজন, “আরএসএস-বিজেপির কর্মসূচি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে করানো হচ্ছে। মমতা প্রথমে বলেছিলেন, এসআইআর হতে দেবেন না। পরে বলছেন, ভোটের পরে হলে অসুবিধা নেই। অর্থাৎ ওঁর ভুয়ো, মৃত ভোটারদের রাখতে চান। কিন্তু নাগরিকত্ব ও ভোটারদের নাম বাদের প্রশ্নে আপত্তি নেই।”
তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী পাল্টা বলেছেন, “সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নিশ্চয়ই আইন বহির্ভূত কাজ করবে না। তাই মুখ্যমন্ত্রী আবেদন করেছেন, সওয়ালও করেছেন। এসআইআর-হয়রানির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই যখন দেশে প্রশংসিত, তখন সিপিএম আসলে প্রচার পেতে চাইছে।” অন্য দিকে, এসআইআর-এর নামে মানুষকে ‘বে-নাগরিক’ করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা যে ভাবে সুপ্রিম কোর্টে সরব হয়েছেন, তার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পিডিএসের সাধারণ সম্পাদক অনুরাধা দেব।