Earthquake

আবার কাঁপল কলকাতা, বাংলাদেশের ভূমিকম্পে বাড়ি ভাঙল মিনাখাঁয়, রাস্তায় ফাটল কলকাতার বেহালায়

শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ কেঁপে ওঠে কলকাতার উত্তর এবং দক্ষিণ। পরে জানা যায় শুধু কলকাতা নয়, এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৪০
Earthquake in Kolkata and other districts in West Bengal, epicenter of the earthquake is Satkhira, Bangladesh

ভূমিকম্পের আতঙ্কে শুক্রবার দুপুরে অফিস থেকে রাস্তায় নেমে আসেন কর্মীরা। ছবি: পিটিআই।

আবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা। শুধু কলকাতা নয়, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভারতের ভূকম্প বিজ্ঞানকেন্দ্র (ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি) জানায়, কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। তবে মার্কিন ভূকম্প পর্যবেক্ষণকারী কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৩। কেন্দ্রস্থল মাটি থেকে ৯.৮ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের উৎসস্থল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা উপজেলার আশাশুলি, যা কলকাতা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটারের মধ্যেই। সেই কম্পনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কোথাও বাড়ি ভেঙেছে, কোথাও আবার বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। কোথাও রাস্তায় ফাটলও দেখা দিয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ আচমকাই কেঁপে ওঠে কলকাতার উত্তর এবং দক্ষিণ। পরে জানা যায় শুধু কলকাতা নয়, এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। অফিস-বাড়ি থেকে লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। কয়েক সেকেন্ডের জন্য কম্পন ভয় ধরায় সাধারণ মানুষের মনে। প্রাথমিক ভাবে, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের পরিমাণ জানা যায়নি। পরে জানা যায়, কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মিনাখাঁয় ভাঙল বাড়ি

ভূমিকম্পের জেরে উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁর জয় গ্রামে একটি নবনির্মিত বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর মিলেছে। এ ছাড়াও, বসিরহাটের ৭২ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে সোনার দোকানের কাচও ভেঙেছে কম্পনে। হিঙ্গলগঞ্জের একটি পুরনো বা়ড়িতে আড়াআড়ি ফাটল ধরেছে বলে জানা গিয়েছে।

কলকাতার রাস্তায় ফাটল

শুক্রবার দুপুর থেকে বেহালার পর্ণশ্রীতে একটি রাস্তায় ফাটল ধরা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় ফাটল ধরা রাস্তার ছবি। যে রাস্তায় ফাটল ধরেছে, সেটি কলকাতা পুরসভার ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। স্থানীয় মানুষজন জানাচ্ছেন, আগে রাস্তা কাঁচা ছিল। কয়েক দিন ধরে সংস্কারের কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতেই পিচ ঢালা হয় রাস্তায়। দুপুরে ভূমিকম্পের পর সেখানেই ফাটল দেখা যায়। ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্চিতা মিত্র খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। তাঁর তত্ত্বাবধানে আবার ওই রাস্তার কাজ শুরু হয়। আনন্দবাজার ডট কম-কে কাউন্সিলর বলেন, ‘‘আমি পার্টি অফিসে ছিলাম। রাস্তায় ফাটল ধরার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। দেখলাম প্রায় ২০ ফুট মতো ফাটল। সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু হয়।’’

কলকাতার বহুতল হেলে পড়ার ‘গুজব’

ভূমিকম্পের জেরে মধ্য কলকাতায় একটি বহুতল হেলে গিয়েছে বলে প্রথমে দাবি করেন স্থানীয়দের একাংশ। খবর পেয়েই গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ লাগোয়া ৩৪এ মেটকাফ স্ট্রিটের ওই বহুতলের পৌঁছোয় দমকল। তবে বহুতলের বাসিন্দা এবং স্থানীয়দের অন্য একটি অংশের দাবি, বাড়িটি দীর্ঘ দিন ধরে একই অবস্থায় রয়েছে। হেলে পড়ার বিষয়টি উড়িয়ে দেন তাঁরা। পরে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে, ২০ বছর ধরেই বাড়িটি ওই অবস্থায় রয়েছে। ভূমিকম্পে হেলে পড়ার কোনও ঘটনা ঘটেনি।

কী প্রভাব অন্যান্য জেলায়

কলকাতার পাশাপাশি, দক্ষিণবঙ্গের দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া-হুগলি, দুই ২৪ পরগনায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলাতেও মৃদু কম্পন অনুভব করেছেন স্থানীয়েরা। আতঙ্ক ছড়ায় মেদিনীপুর শহরেও। এলাকার বেশ কিছু বাড়ি এবং আবাসন নড়ে যায়। বন্ধ থাকা সিলিং ফ্যান দুলতে থাকে বেশ কিছু ক্ষণ। একই ভাবে ঝাড়গ্রাম জেলাতেও ভূমিকম্পের অনুভূতি পেয়েছেন অনেকেই। হাওড়া এবং হুগলিতেও একই পরিস্থিতি। সেখানেও বাড়ি ছেড়ে ভয়ে রাস্তায় বেরিয়ে যান অনেকে।

কম্পন সিকিমেও

শুক্রবার বেলা ১২টা নাগাদ সিকিমেও ভূমিকম্প হয়েছে। কম্পনের মাত্রা ছিল ২.৪। সেখানেও বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

Advertisement
আরও পড়ুন