— প্রতীকী চিত্র।
কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন উপ-নগরপাল শান্তনু সিংহ বিশ্বাস ও দক্ষিণ শহরতলির সমাজবিরোধী সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কলকাতা পুরসভার পুরপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তদন্তে সক্রিয় হল ইডি। জাল নথির মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি জমি দখল এবং তাতে অবৈধ নির্মাণের ওই মামলায় ইডি-র হেফাজতে থাকা শান্তনু ও সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ একাধিক পুরপ্রতিনিধি জড়িত বলে আদালতে লিখিত দাবি করেছে ইডি।
দুর্নীতির কালো টাকা লেনদেনের ডেরা, ই এম বাইপাস সংলগ্ন একটি ক্লাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। ওই ক্লাব গত ১৫ বছর ধরে কলকাতার পুরপ্রতিনিধি এবং পূর্বতন সরকারের ক্ষমতাশালী একটি পরিবারের দুই সদস্যের কালো টাকার লেনদেনের আস্তানা ছিল, এমনই দাবি তদন্তকারীদের। বেআইনি ভাবে কয়েক বিঘা সরকারি জমি দখল করে ওই ক্লাবের সীমানা বৃদ্ধি ও বেআইনি নির্মাণ হয়েছে বলে দাবি করছেন তদন্তকারীরা। ওই মামলায় একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে রাসবিহারীর প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্তমানে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারকে। তাঁর বয়ানও নথিবদ্ধ করা হয়।
ইডি সূত্রের দাবি, পুলিশ, কলকাতার পুরপ্রতিনিধি এবং সমাজবিরোধীদের নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল। অসহায় প্রবীণদের সম্পত্তি হস্তগত করতে জাল নথি তৈরি অথবা বিঘার পর বিঘা সরকারি খাস জমির চরিত্র জাল নথির মাধ্যমে বদলে ফেলত শান্তনুর সেই সিন্ডিকেট। পুরপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ওই সব জমি দখল করা হয়েছিল। সেখানে বেআইনি নির্মাণ করে তা বিক্রির মাধ্যমে কয়েকশো কোটি টাকা আয় হয়। তদন্তকারীদের দাবি, গত ১০ বছর ধরে ওই সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। বাইপাস সংলগ্ন একটি ওয়ার্ডের এক মহিলা পুরপ্রতিনিধি এবং পূর্বতন সরকারের ক্ষমতাশালী পরিবারটির দুই সদস্য সেই সিন্ডিকেটের মাথা।
ওই মহিলা পুরপ্রতিনিধি, শান্তনু ও সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ একাধিক পুরপ্রতিনিধির বেআইনি সম্পত্তির হদিস পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। ওই সব সম্পত্তির বিষয়ে কলকাতা পুরসভাএবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ভূমি রাজস্ব দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তদন্তকারী অফিসারদের বক্তব্য, বাইপাসের মুকুন্দপুর সংলগ্ন এলাকার একটি বড় ক্লাবে দুর্নীতির কালো টাকা জমা হত।সেখান থেকে টাকা পৌঁছে যেত নানা প্রভাবশালী এবং প্রভাবশালী-ঘনিষ্ঠদের কাছে।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকায় ওই ক্লাবের মালিকপক্ষ সরকারি জমি বেআইনি ভাবে দখল করে নিজেদের সীমানা বাড়িয়েছেন। এমনকি, নিকাশি-খালের পথ দখল করে ওই ক্লাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলেও দাবি ইডি-র। যা বেআইনি।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, দুর্নীতির কালো টাকার অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। ইডি-র এক কর্তার কথায়, ওই ক্লাব-মালিকের বিদেশে বসবাসকারী আত্মীয়দের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ইডি-র দাবি, গত ১০ বছরে ওই মহিলা পুরপ্রতিনিধির সম্পত্তি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যা আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। পুরসভার ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে জমি দখল করে একটি অনুষ্ঠান-বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি। সব বেআইনি সম্পত্তির বিষয়ে ও কলকাতা পুরসভা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ভূমি রাজস্ব দফতরে নথিপত্রের খোঁজ চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।