CEC Gyanesh Kumar

নির্দেশ অমান্যে ভোটের পরেও বিভাগীয় তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে! সব জেলার ডিএম, এসপি-কে সতর্কবার্তা জ্ঞানেশের

কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠকে স্পষ্ট করে দেয়, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হতেই হবে। নির্বাচনের সময়ে বা পরে কোনও ভাবেই যাতে হিংসার পরিস্থিতি তৈরি না-হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন জ্ঞানেশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ২০:২৫
Election Commission reportedly warned officials during meeting

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ছবি: সংগৃহীত।

নির্দেশ না-মানলে বিভাগীয় তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে। এ বার তা নিয়ে সকল জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপারকে সতর্ক করে দিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের সময়ে যেন কোনও বোমা বা পিস্তলের খবর না-পাওয়া যায়, তা নিয়েও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, বোমা এবং পিস্তল যথাসম্ভব বাজেয়াপ্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

Advertisement

শুধু ভোটের সময়ে নয়, ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়েও রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সূত্রের খবর, বৈঠকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে যে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই বিষয় উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গোটা দেশ দেখেছিল ভোট-পরবর্তী হিংসার ছবি।’’ কমিশনের নির্দেশ, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না-হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকেই।

অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন, বৈঠকে জানালেন জ্ঞানেশ। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করবে না পুলিশ।’’ বৈঠকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‘কোনও সভ্য সমাজে ভোটের সময় কেন গোলাগুলি চলবে?’’ জ্ঞানেশের সংযোজন, এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে।

সোমবার দুপুরে রাজ্যের সকল জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই জেলাশাসক এবং জেলার পুলিশকর্তাদের কড়া বার্তা দিয়ে রাখেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সূত্রের খবর, জ্ঞানেশের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ ওই বৈঠক স্পষ্ট করে দেয়, নির্বাচনে কোথাও কোনও ভুয়ো সংবাদ দেখলে, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে এফআইআর রুজু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছেছেন জ্ঞানেশ। তাঁর সঙ্গে দুই কমিশনারও এসেছেন। সোমবার থেকে দফায় দফায় বৈঠক শুরু করেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। দুপুরে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, ওই বৈঠক চলাকালীন ‘ধমক’ খান রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন আধিকারিক। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ওই বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলকেও ভর্ৎসনা করেন বলে সূত্রের দাবি।

কমিশনের ওই সূত্রের দাবি, বৈঠকে রাজ্যের আধিকারিকদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হয়েছে, যদি কেউ ভাবেন, দেড় মাসের জন্য কমিশন সক্রিয়, তার পরে আর নয়, তা হলে সেটা একেবারে ভুল ভাবনা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা আধিকারিক বলেন, “কমিশন বলেছে, ইচ্ছাকৃত গরমিল বা গাফিলতি প্রমাণ হলে, এমন জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে, যেখান থেকে ফেরার সুযোগ থাকবে না।” সূত্রের দাবি, ‘নার্কোটিক্স অ‍্যাডভাইসরি কমিটি’ একমাত্র এ রাজ্যে কেন নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ। শুধু তা-ই নয়, সূত্রের আরও দাবি, রাজ্যে পিআইটিএনডিপিএস আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা কেন হয়নি, প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। এটি একটি কেন্দ্রীয় আইন। মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনে এই আইনের সাহায্যে আগাম আটক (প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন) সম্ভব।

Advertisement
আরও পড়ুন