JUP Leader Humayun Kabir

নিলম্বিত হলেও বিধানসভার শেষ অধিবেশনে প্রাক্তন সতীর্থ বিধায়কদের পাশেই বসতে হবে ভরতপুর বিধায়ক হুমায়ুনকে

মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেট অধিবেশন। সেই অধিবেশনে বসার জায়গার কোনও বদল হবে না হুমায়ুন কবীরের, বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে এমনটাই খবর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪১
Even after being suspended, Humayun Kabir will have to sit next to his former fellow MLAs in the last session of the Legislative Assembly

নিলম্বিত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। —ফাইল চিত্র।

গত বছর ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখে তৃণমূল থেকে তাঁকে নিলম্বিত করা হয়েছে ছয় বছরের জন্য। তার পরেই নিজের রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টির (জেইউপি) ঘোষণা করেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেট অধিবেশন। সেই অধিবেশনে বসার জায়গার কোনও বদল হবে না হুমায়ুনের, বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে এমনটাই খবর।

Advertisement

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন হুমায়ুন। নিজের পছন্দের আসন রেজিনগরের বদলে তাঁকে প্রার্থী করা হয় ভরতপুরে। সেই ভরতপুরের কংগ্রেস বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিধানসভার সদস্য হন।

দ্বিতীয় বার বিধানসভার সদস্য হলে অধিবেশনে ব্লক-৬-এর ২০৯ নম্বর আসনটি বরাদ্দ হয়েছিল হুমায়ূনের জন্য। তার পর থেকেই নানা সময় দলবিরোধী মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়িয়েছিলেন হুমায়ুন। একাধিক বার শো কজ় করা হলেও, নিজের চালচলনে কোনও বদল আনেনি তিনি। গত বছর আচমকা হুমায়ুন ঘোষণা করে দেন, বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ গড়বেন। সেই কাজের জন্য অর্থ জোগাড় করতে শুরু করেন তিনি। সমাজমাধ্যমে প্রচার করে মসজিদের নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু হয় জোরকদমে। ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিকে বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের দিন হিসাবে ধার্য করেন। এমন ঘোষণার পর সাংবাদিক বৈঠক করে ৪ ডিসেম্বর হুমায়ূনকে তৃণমূল থেকে ছয় বছরের জন্য বিলম্বিত করেন ফিরহাদ হাকিম।

তার পর ২২ ডিসেম্বর বেলডাঙায় জনসভা করে নিজের রাজনৈতিক দলের কথা ঘোষণা করেন হুমায়ুন। যেহেতু তৃণমূল থেকে নিলম্বিত হয়েছেন, তাই জল্পনা ছিল তৃণমূল পরিষদীয় দল থেকে বিধানসভার সচিবালয়ের কাছে তাঁর আসনটি শাসকদলের ব্লক থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে। তৃণমূল পরিষদীয় দল সূত্রে খবর, এই ধরনের কোনও আবেদন করা হবে না। তাই আপাতত নিজের বরাদ্দ করা আসনেই বসতে হবে হুমায়ুনকে।

অন্য দিকে, জেল থেকে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর তৃণমূল থেকে নিলম্বিত বেহালা পশ্চিমের পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্পিকারকে চিঠি লিখে বিধানসভায় যোগদানের ইচ্ছে প্রকাশ করে বক্তৃতা করার আবেদন জানালেও, তার পর থেকে আর যোগাযোগ করেনি। যেহেতু বিধানসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই, তাই তিনি বিধানসভার শেষ অধিবেশনে যোগদান করবেন না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তাঁরা। পার্থেরও বসার আসন বদল করা হয়নি।

Advertisement
আরও পড়ুন