ডায়মন্ড হারবারে দলের সভায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। —নিজস্ব চিত্র।
পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না, এই দাবিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার পথের প্রতিবাদের ঝাঁঝ আরও বাড়াল সিপিএম। পাশাপাশি, যে সব জায়গায় উচ্ছেদ হয়েছে, সেখানেও লোকজনের পাশে দাঁড়াতে নানা পদক্ষেপ করার চেষ্টা চালাচ্ছে সিপিএম-সহ বামেরা। এই প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশকে সামনে রেখে বিজেপিকে বিঁধেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ, যোগ্য ভোটারদের নাম দ্রুত ভোটার তালিকায় তোলা, স্মার্ট মিটার বাতিল, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এ দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে মহকুমাশাসকের দফতরে মিছিল করে গিয়ে দাবিপত্র দিয়েছে সিপিএম। হয়েছে প্রতিবাদসভাও। ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী-সহ অন্যেরা। সেলিমের অভিযোগ, “বিজেপি বা তৃণমূল, যে নামই থাকুক, লুটে খাওয়ার সরকার সব সময় গরিব মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পুনর্বাসনের আগে উচ্ছেদ চলবে না। সুপ্রিম কোর্টও বলেছে যে, কারও আর্থিক জীবন তছনছ করে উন্নয়ন হতে পারে না।” তাঁর সংযোজন, “হাওড়া, দমদম, উত্তরপাড়া, যাদবপুরে হকারদের দোকান ভাঙছে। দোকান ভাঙার সময় কি হিন্দু, মুসলমান দেখছে? আগুন লাগলে সব দোকানই আগুনের আওতায় আসে।” উচ্ছেদের প্রতিবাদে যাদবপুরে নাগরিক মিছিলও হয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া স্টেশনে ‘অবৈধ’ অভিযোগে রেল হকার-উচ্ছেদ চালিয়েছে। সেখানে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ মানুষের পাশে দাঁড়াতে ‘কমিউনিটি কিচেন’ শুরু করেছে সিপিএম। দলের নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “এখানে বুলডোজ়ার ঠেকানো যায়নি। কিন্তু গরিব মানুষের দল তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়নি।” ওই জেলারই পলতা স্টেশন চত্বরে ১৭ তারিখ পর্যন্ত আদালতের স্থগিতাদেশ থাকলেও, তার আগে সোমবার রাতেই রেল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিপিএম। তবে এ দিন তারিখ থাকলেও তাদের আন্দোলনের জেরে বামনগাছিতে রেল উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারেনি বলে দাবি করেছে বামেরা। পরবর্তী উচ্ছেদের তারিখ দেওয়া হয়েছে ২ জুলাই।
শুরু হয়েছে আইনি লড়াইও। হকার উচ্ছেদের নামে সাংবিধানিক অধিকার এবং হকার আইন ২০১৪ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ অসংগঠিত শ্রমিক ও কর্মচারী কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) উর্বশী বন্দ্যোপাধ্যায়।