Fish-Rice in West Bengal Assembly

মাছে-ভাতে বিজেপি! শপথ নিতে যাওয়া বিধায়কদের মধ্যাহ্নভোজে ষোলোআনা বাঙালিয়ানা, উদ্যোক্তা প্রোটেম স্পিকার তাপস

বিধানসভার আগেও মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়েছিল সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে। ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা হতেই সেখানে মাছ-ভাত খাওয়ানো হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ১৩:৫২
বিজেপি বিধায়কদের জন্য মাছ-ভাতের আয়োজন বিধানসভায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিজেপি বিধায়কদের জন্য মাছ-ভাতের আয়োজন বিধানসভায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিধানসভাতেও বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। শপথ নিতে যাওয়া বিজেপি বিধায়কদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে রাখা হয়েছে মাছ-ভাত। আর এই ভরপুর বাঙালিয়ানা উদ্‌যাপনের উদ্যোক্তা প্রোটেম স্পিকার তথা মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। বিধায়কদের মধ্যাহ্নভোজে মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়েছে, এ কথা বলার সময় মুচকি হাসেন তাপস।

Advertisement

তবে বিধানসভার আগেও মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়েছিল সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে। ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা হতেই সেখানে মাছ-ভাত খাওয়ানো হয়। বার বার মেনুতে মাছ রেখে বিজেপি এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, তারা মাছ, মাংসের বিরোধী নয়। যে অভিযোগ তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল বার বার সরব হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ভোটের প্রচারেও বার বার এই কথাই বলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তা হলে বাঙালির অস্মিতা ধ্বংস হয়ে যাবে। রাজ্যে মাছ, মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

বুধবার বিধানসভায় মাছ-ভাত খাচ্ছেন বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

বুধবার বিধানসভায় মাছ-ভাত খাচ্ছেন বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র।

কিন্তু তৃণমূলের সেই দাবি যে একেবারেই মিথ্যা, তা প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে বিজেপিও। ভোটের সময় তাই বিজেপি প্রার্থীদের অনেককেই মাছ নিয়ে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে। আর তার মাধ্যমেই বার্তা দেওয়া হয় যে, বিজেপির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা মোটেই ঠিক নয়। বিজেপি বাঙালিবিরোধী নয়। বাংলার সংস্কৃতিবিরোধী নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ভোটের প্রচারে এসে মাছের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। বিজেপির বিরুদ্ধে পূর্বতন শাসকদল যে মাছবিরোধী তকমা জুড়ে দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পরে সেই মাছ-ভাতের আয়োজন করেই বিজেপি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে যে, তারা কখনওই মাছ-ভাতের বিরোধী নয়। তাই ভোটে জেতার পরে দেখা গিয়েছে সল্টলেকে দলের রাজ্য দফতরে মাছ-ভাতের আয়োজন হয়েছে। এ বার সেই মাছ-ভাত এবং বাঙালিয়ানা পৌঁছে গেল বিধানসভাতেও। তাঁদের শাসনকালেও বাঙালি যে মাছে-ভাতেই থাকবে, মুচকি হেসে কি তেমনই ইঙ্গিত দিতে চাইলেন প্রোটেম স্পিকার তাপস!

Advertisement
আরও পড়ুন