প্রয়াত মালদহ দক্ষিণের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী। —ফাইল চিত্র।
প্রয়াত হলেন মালদহ দক্ষিণের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু নামেই যিনি পরিচিত)। বুধবার রাতে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বয়স হয়েছিল ৮৯। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। ডালুর পুত্র ঈশা খান চৌধুরী মালদহ দক্ষিণের বর্তমান কংগ্রেস সাংসদ।
ঘটনাচক্রে, দু’দশক আগে বিধানসভা ভোটের আগে প্রয়াত হয়েছিলেন ডালুর দাদা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবিএ গনিখান চৌধুরী। দিনটি ছিল ২০০৬ সালের ১৪ এপ্রিল। ডালু সে সময় ছিলেন কালিয়াচকের বিধায়ক। দাদার মৃত্যুর পরে উপনির্বাচনে অবিভক্ত মালদহ লোকসভা থেকে সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। আসন পুনর্বিন্যাসের পরে ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। ২০১২-১৪ দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন।
দীর্ঘ দিন ধরে দাদা গনি খানের রাজনৈতিক সহকারী হিসাবেই পরিচিত ছিলেন ডালু। ১৯৯৬ সালের বিধানসভা ভোটে মালদহের কালিয়াচক আসন থেকে জিতে পরিষদীয় রাজনীতিতে ‘হাতেখড়ি’ হয়েছিল তাঁর। ২০০১ সালের বিধানসভা ভোটেও ওই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন তিনি। ডালুর আর এক দাদা প্রয়াত আবু নাসের খান চৌধুরী ২০১১ সালে রাজ্যে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন। দিদি প্রয়াত রুবি নূর ছিলেন দীর্ঘ দিনের কংগ্রেস বিধায়ক। রুবির কন্যা মৌসম বেনজির নূর সুজাপুরের কংগ্রেস বিধায়ক এবং মালদহ উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ ছিলেন। ২০১৯-এ তৃণমূলে যোগ দিলেও সম্প্রতি রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরে বিধানসভা ভোটে মালতীপুর আসনে প্রার্থী হয়েছেন মৌসম।
ডালুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রিয় ডালুদার প্রয়াণ আমার কাছে এক চরম আঘাত। আমার হৃদয়ের খুব কাছের এক জনকে হারালাম। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাই’। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার শোকবার্তায় জানিয়েছেন, ডালুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার রাজ্যে কংগ্রেসের সব দফতরে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।