WB Elections 2026

তিন বুথে নাম বাদ প্রায় সব ‘বিবেচনাধীনের’

চুঁচুড়া বিধানসভার সাহাগঞ্জ ঈশ্বরবাহা এলাকায় ৬৫ নম্বর বুথে বিবেচনাধীন ছিলেন ৬৫ জন। নাম বাদ গিয়েছে ৬৪ জনের।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ১০:০৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় হুগলিতে মোট বিবেচনাধীনের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬৪ জন। তার মধ্যে প্রথম দফায় প্রকাশিত অতিরিক্ত তালিকায় মোট কত জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হল বা কত জনের বাদ গেল, তা স্পষ্ট হল না বুধবারেও। জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে সার্বিক ভাবে কিছু জানাতে পারেনি। তবে, বুথ বা বিধানসভাভিত্তিক কিছু তথ্য মিলেছে। সেই মতো অন্তত তিনটি বুথে দু’জন বাদে প্রায় সব বিবেচনাধীনেরই নাম বাদ গিয়েছে। ফলে, তাঁদের উদ্বেগ বেড়েছে।

চুঁচুড়া বিধানসভার সাহাগঞ্জ ঈশ্বরবাহা এলাকায় ৬৫ নম্বর বুথে বিবেচনাধীন ছিলেন ৬৫ জন। নাম বাদ গিয়েছে ৬৪ জনের। বেশির ভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। বলাগড় বিধানসভার ইছাপুর গ্রামের ৫০ নম্বর বুথের ৬৪ জনের নাম বিবেচনাধীন ছিল। সকলের নামই বাদ গিয়েছে। সকলেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য শাবানা বিবিও। ওই গ্রামেরই মরাঘাটা এলাকার ৪৯ নম্বর বুথের ২৬ জন বিবেচনাধীনের মধ্যে ২৫ জনের নাম বাদ গিয়েছে। ওই তালিকা হাতে বুধবার বিকেলে গ্রামের রাস্তায় প্রায় ১৫ মিনিট প্রতিবাদ জানান দুই বুথের বাদ পড়ারা। পরে ওই তালিকা প্রতিটি বাড়ির দেওয়ালে সেঁটে দেওয়া হয়। ভোটার-তালিকায় নাম তোলারও দাবি ওঠে।

শাবানা বলেন, ‘‘শুনানিতে মাধ্যমিক পাশের শংসাপত্র-সহ সব রকম নথিই দিয়েছি। বাকিরাও দিয়েছেন। কেন এত নাম বাদ গেল, জানি না।’’ ৫০ নম্বর বুথেরই বাসিন্দা, বৃদ্ধ রুহুলামিন মোল্লার খেদ, ‘‘আমাদের পরিবার এখানকার দীর্ঘকালের বাসিন্দা। সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও ছোট ছেলের নাম বাদ গেল। বাড়ির সকলেরমন খারাপ।’’

জেলার আরও কয়েকটি বুথেও বেশ কিছু বিবেচনাধীনের নাম বাদ গিয়েছে। যেমন, চুঁচুড়ার ২২৪ নম্বর বুথে বিবেচনাধীন ছিলেন ১১৯ জন। এর মধ্যে ১০০ জনের নথিপত্র যাচাই রয়েছে। তার মধ্যে নাম বাদ গিয়েছে ৮০ জনের। ধনেখালির ২৭৮ নম্বর বুথে বিবেচনাধীন ছিলেন ৪১ জন। নাম বাদ গিয়েছে ৩০ জনের। বিভিন্ন বুথে বাদ পড়ারা এ বার ট্রাইবুনালে যাওয়ার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন।

এত নাম বাদ পড়ার পিছনে ‘রাজনীতি’ দেখছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। ধনেখালির কংগ্রেস নেতা সফিউল ইসলামের দাবি, ‘‘২০০২-এ তালিকায় বাবা-মায়ের নাম থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের নাম বাদ! উপযুক্ত নথি দিয়েও নাম বাদ! নির্বাচন কমিশন বিচারকদের সব নথি দিয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। রাজনৈতিক অভিসন্ধি ছাড়া এটা হতে পারে না।’’ তৃণমূলের চুঁচুড়ার প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, ‘‘বিজেপির প্রার্থী তালিকা ও ভোটার তালিকা একই কম্পিউটারে করা হচ্ছে।’’

বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় পাল্টা বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের কর্মচারীরাই এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ফলে, ন্যায্য নাম বাদ গেলে দায় রাজ্য সরকারেরউপরেই বর্তায়।’’

আরও পড়ুন