— প্রতীকী চিত্র।
ফি বছর বন্যা হয় আরামবাগ মহকুমায়। মঙ্গলবার মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখাতে গুরুত্ব দিলেন জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি। বৈঠকের আগে তিনি খানাকুলের হরিশচকের ছাব্বিশ বিঘা এলাকায় মুণ্ডেশ্বরী নদীর বাঁধ পরিদর্শন করেন। সম্প্রতি বৃষ্টির জল গড়িয়ে সেখানে বাঁধে ক্ষতি হয়েছে।
এ দিনের বৈঠকে মহকুমার নদ-নদী বাঁধের হাল, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, রাস্তা-ঘাট, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ইত্যাদি যাবতীয় ক্ষেত্রে কী ভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে পর্যালোচনা করেন তিনি। কোথায় কত নৌকো মজুত রাখতে হবে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সর্পাঘাতের প্রতিষেধক-সহ প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাদ্য দফতর থেকে খাদ্য কোথায় কত মজুত রাখার প্রয়োজন থেকে শুরু করে ফ্লাড শেল্টারগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলিকে। বাঁধের ক্ষত দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন জেলাশাসক।
প্লাবনের সময়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কারা দ্রুত খবর পাঠাবেন, প্রয়োজনে কোথায় হেলিকপ্টার থেকে ত্রাণ ফেলা যাবে— এসব নানা বিষয়েও তালিকা চূড়ান্ত করার কথাও বলেন জেলাশাসক।
বন্যার সময়ে তো বটেই, বন্যার পরে কী কী জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। বিভিন্ন দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি কমানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আরামবাগ মহকুমায় প্রতি বর্ষায় সাধারণত জুলাই মাস থেকে অক্টোবর মাসের ৭ তারিখের মধ্যে তিন-চার দফায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। মহকুমার মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে দ্বারকেশ্বর নদ, দামোদর নদ ও দামোদরের শাখা মুণ্ডেশ্বরী নদী এবং রূপনারায়ণ নদ। এ ছাড়াও আছে অসংখ্য খাল-বিল। বর্ষায় ডিভিসি, মাইথন, পাঞ্চেত ও কংসাবতী ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ায় মহকুমার ছ’টি ব্লকের ৬৩টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ৫৩টিই বন্যা কবলিত হয়।